এভারেস্টের উচ্চতা নিয়ে টানাটানি
২০ ফেব্রুয়ারি: এভারেস্টের সত্যিকারের উচ্চতা কতো? এই নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে চীন ও নেপাল। নিজেদের মতো করে মেপেঝুপে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতা জানাচ্ছেন চীন ও নেপাল। চীনের হিসাব অনুযায়ী ৩ দশমিক ৫৭ মিটার কমে গেছে এভারেস্টের উচ্চতা।
চীন দাবি করছেন, এভারেস্টের চূড়ার বরফের যে আস্তর রয়েছে তা বাদ দিতে হবে। প্রায় সাড়ে তিন মিটার বরফের আস্তর রয়েছে। পাথরের চূড়া মাপতে হবে বরফের নয়।
সে হিসাব করলে এখন এভারেস্টের উচ্চতা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৮৪৪ দশমিক ৪৩ মিটার। নেপালের দাবি এভারেস্টের উচ্চতা আট হাজার ৮৪৮ মিটার।
নেপালের দাবি করা উচ্চতাটি ১৯৫৪ সালে ভারতীয় জরিপকারীদের দেয়া। সে সময় জরিপ দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বি এল গুলাতি।
এর আগে ১৮৫২ সালে অপর ভারতীয় জরিপকারী রাধানাথ শিকদার জানিয়েছিলেন ১৫ নম্বর চূড়াটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় চূড়া। এটি নেপাল ও চীনের সীমান্তের মধ্যে পড়েছে। সেই ১৫ নম্বর চূড়াটিকেই পরবর্তীতে এভারেস্ট নাম দেয়া হয়।
এ মাসের শুরুতে বিষয়টি নিয়ে চীন ও নেপাল সীমান্তর্বতী এক বৈঠক ডাকে। এতে মূল বিষয় ছিল এভারেস্টের উচ্চতা। পরে নেপালের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।
২০০৫ সালে চীন প্রথমবারের মতো এভারেস্টের উচ্চতা ঘোষণা করে। পরে নেপালকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখার জন্য আহ্বান জানায় চীন।
কিন্তু এর আগে ১৯৭৫ সালে যখন চীন নেপাল সীমান্ত চুক্তি সাক্ষরিত হয় তখন চীন এভারেস্টের উচ্চতা আট হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৩ মিটার মেনে নিয়ে চুক্তি সাক্ষর করেছিল।
বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলে আমেরিকার ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি। জিপিএস টেকনোলজি ব্যবহার করে জানায়, এভারেস্টের উচ্চতা এখন আট হাজার ৮৫০ মিটার।