তিস্তাচুক্তি: মমতাকে রাজি করানোর চেষ্টা
১৯ ফেব্রুয়ারি: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যে শনিবার এক বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
তবে মনে করা হচ্ছে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে যাতে মমতা ব্যানার্জি সম্মতি দেন, সেটা বোঝানোই মি. মাথাইয়ের এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই বলেন, ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে- কথা হয়েছে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয় নিয়েও। এই বৈঠক সন্তোষজনক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মি. মাথাই।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি ।
উল্লেখ্য, গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতেই তিস্তা নদীর জলবন্টন চুক্তি সই হওয়া আটকে যায়।
তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে দিল্লি থেকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জির কাছে দূত পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এখনও এরকম কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে মমতা ব্যানার্জি তার ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসছেন।
নদী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তিনি যে রিপোর্ট তৈরি করাচ্ছেন তিস্তার পানিপ্রবাহের ব্যাপারে-সেই রিপোর্ট এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তবে মমতা ব্যানার্জি যে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করে বাংলাদেশকে পানি দিতে রাজি হবেন না সেই অবস্থানেই তিনি এখনও অনড় রয়েছেন।
মমতা ব্যানার্জি তার ঘনিষ্ঠ মহলে বলছেন, তিস্তা বা ছিটমহলের চেয়েও তাঁর সবচে বড় চিন্তা হলো- ফারাক্কা ব্যারাজের দুটি লকগেট দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশের দিকে যে বিপুল পরিমাণ পানি চলে যাচ্ছে আর পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষত ভাগিরথী নদীতে পানিপ্রবাহ খুবই কমে গেছে সে বিষয়টি।
ফারাক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাব বজায় রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ইস্যুকে মানুষের তৈরি বিতর্ক ব্যাখ্যা দিয়ে শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে ফের চিঠি দেন তিনি। চিঠিতে তার স্পষ্ট অভিযোগ, ফারাক্কা ব্যারেজের জলে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হন। ফরাক্কা ব্যারেজ নিয়ে ওই রিপোর্টে অভিযোগ, স্লুইস গেট খারাপ বলে বাংলাদেশকে অনেক বেশি পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে রাজ্য সরকারের পক্ষে এই চুক্তি মেনে নেয়া অসম্ভব।
গত বছর ব্যারেজে দু’টি স্লুইস গেট অকেজো হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশ প্রায় ৮২ হাজার কিউসেক পানি পেয়ে যায় গোটা বছরে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওয়ার কথা ৩৫ হাজার কিউসেক পানি। রিপোর্টে আশঙ্কা, এই হারে পানি বেরিয়ে গেলে জলের স্তর এতটা নেমে যাবে যে এনটিপিসি-র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। যার ফলে রাজ্য জুড়ে বিদ্যুৎ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপর্যয় দেখা দেবে।
মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্র: বিবিসি।