আগামী এপ্রিলে ইরানে হামলা চালাবে ইসরায়েল
৪ ফেব্রুয়ারি: ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখতে আগামী এপ্রিলে দেশটির ওপর ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্যানেট্টা বলেন, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি যে কোনো ধরনের সামরিক হামলার বিষয়ে পশ্চিমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শুক্রবার খামেনি বলেন, ইরানে কোনো প্রকার হামলার হুমকি দেওয়া হলে আমরা আমেরিকাকে দায়ী করব। তারা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা আমাদের পরমাণু কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। পশ্চিমাদের সামরিক হামলার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সময়মতোই এর জবাব দেব। ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করতে হিজবুল্লাহ এবং হামাসকে তেহরান সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খামেনি বলেন, আমার বলতে কোনো ভয় নেই, যারা ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে কিংবা তাদের মুখোমুখি হতে চায় তাদের সব ধরনের সহায়তা করব আমরা।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট অভিযোগ করেছে, বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর চেষ্টা করছে তেহরান। বিজ্ঞানী হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এসব হামলা চালানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন শিন বেট প্রধান ইয়োরাম কোহেন।
গত দু'বছরে ইরানের ৪ জন পরমাণুবিজ্ঞানী হত্যার পেছনে ইসরায়েল দায়ী বলে মনে করে ইরান; যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কোহেন বলেন, ইরানের রেভুলিউশনারি গার্ড বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের স্থাপনায় হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তুরস্ক, আজারবাইজান এবং থাইল্যান্ডে ইতিমধ্যেই তারা হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান তিনি।
ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক ডেভিড ইগনাটিয়াস ওই প্রতিবেদনে ওবামা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার উদৃব্দতি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের ভাষায় 'জোন অব ইমিউনিটি'তে প্রবেশে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজ শুরু করার আগেই এপ্রিল, মে বা জুন মাসে দেশটির ওপর ইসরায়েলের হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্যানেট্টা মনে করছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে তেহরান খুব শিগগির যথেষ্ট পরিমাণে ইউরেনিয়াম মজুদ করবে বলে ইসরায়েল আশঙ্কা করছে এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্রই সামরিকভাবে এ কাজে তাদের বাধা দিতে পারবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থগিত হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক মহড়া এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে। এ সময়েই ইরানে হামলার সবুজ সংকেত দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে হামলা চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদ বারাক। তিনি বলেন, যদি নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি কার্যক্রম থেকে বিরত না করা যায় তবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবতে হবে।
এদিকে আইএইএর প্রধান পর্যবেক্ষক ইরান সফর যতটা সফল বলে দাবি করেছিলেন, আসলে ইরান সফর ততটা সফল নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা। পর্যবেক্ষক দলের এক সদস্য বলেন, ইরান তাদের কার্যক্রম বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবে_ এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ইরান সফরে আমরা যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলাম তাদের অনেকেই আলোচনায় বসেননি।