তালেবানকে সহায়তা করছে পাকিস্তান
২ ফেব্রুয়ারি: আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার পর তালেবান যোদ্ধারা দেশটির ক্ষমতা পুনর্দখল করবে। তালেবানের এ লক্ষ্য পূরণে তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যাওয়া ন্যাটোর গোপন এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খার জানান, আফগানিস্তানের ব্যাপারে তাদের গোপন কোনো এজেন্ডা নেই। বিবিসি জানায়, ন্যাটোর গোপন প্রতিবেদনটি তারা দেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান বাহিনী এখনও শক্তিশালী। তাদের প্রতি অনেক আফগানের সমর্থন রয়েছে। তালেবান যোদ্ধাদের সরাসরি সহায়তা করছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আইএসআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। তালেবান নেতারা কে কোথায় আত্মগোপনে আছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। পাকিস্তানি গোয়েন্দারা আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের ওপর বোমা হামলায় সমর্থন ও সহযোগিতা করেন এবং তালেবানকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। ব্রিটেনের পত্রিকা টাইমস অব লন্ডনও এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
ন্যাটোর ওই গোপন প্রতিবেদন আফগানিস্তানে দায়িত্বরত মার্কিন সেনা ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা যৌথভাবে তৈরি করেন। গ্রেফতার করা ৪ হাজারের বেশি তালেবান ও আল কায়দা জঙ্গি এবং বেসামরিক লোককে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া ২৭ হাজার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তালেবানের শীর্ষ নেতারা কোথায় লুকিয়ে আছেন তা পাকিস্তান জানে। 'দ্য স্টেট অব দ্য তালেবান ২০১২' শীর্ষক ওই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করা হয়েছে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায়। এতে বলা হয়, আমেরিকার স্পেশাল অপারেশন টাস্কফোর্স ৪ হাজার তালেবান ও আল কায়দা জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
আফগানিস্তানের অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ এরই মধ্যে আফগান বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিয়েছে ন্যাটো। ২০১৪ সালের মধ্যে পুরো আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে ন্যাটো বাহিনী চলে যাবে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে পড়ায় আফগানিস্তানে বিদেশি বাহিনী ও প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সরকারের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানকে নিয়েও নতুন করে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। আফগানিস্তান সফরকারী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি গতকাল বুধবার কাবুলে হামিদ কারজাইর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অতীতেও তোলা হয়েছে। আফগানিস্তানের বিষয়ে তাদের গোপন কোনো এজেন্ডা নেই। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত ইসলামাবাদে একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ন্যাটোর গোপন প্রতিবেদনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা এ প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকা তালেবানসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নিরাপদ ঘাঁটি। দুর্গম এসব এলাকা থেকে আফগানিস্তানে তৎপরতা চালাচ্ছে জঙ্গিরা।