বিশ্ব
সিরিয়ায় পৌঁছিয়েছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ
২১ ফেব্রুয়ারি: সিরিয়ার তারতুস বন্দরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গর করার পর ইসরাইল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরাইল বলেছে, তাদের পানিসীমার কাছে গেলে ইরানি যুদ্ধজাহাজের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগাল পালমোর রোবরাব বলেছেন, “ইরানি জাহাজ আমাদের পানিসীমার নিকটবর্তী হলে খুব কাছে থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে”।
ইরানের একটি নৌবহর গত শুক্রবার সুয়েজ খাল অতিক্রম করে সিরিয়ার তারতুস বন্দরে নোঙ্গর করেছে। দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার নৌবাহিনীকে বেসামরিক নৌ চলাচল বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্দেশ্যে ইরানের নৌবহরটি সিরিয়ায় গেছে।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পানিসীমায় যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতির মধ্যদিয়ে ইরানের নৌশক্তির প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতেই ইরান নিজের পানিসীমার বাইরেও অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।
এভারেস্টের উচ্চতা নিয়ে টানাটানি
২০ ফেব্রুয়ারি: এভারেস্টের সত্যিকারের উচ্চতা কতো? এই নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে চীন ও নেপাল। নিজেদের মতো করে মেপেঝুপে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতা জানাচ্ছেন চীন ও নেপাল। চীনের হিসাব অনুযায়ী ৩ দশমিক ৫৭ মিটার কমে গেছে এভারেস্টের উচ্চতা।
চীন দাবি করছেন, এভারেস্টের চূড়ার বরফের যে আস্তর রয়েছে তা বাদ দিতে হবে। প্রায় সাড়ে তিন মিটার বরফের আস্তর রয়েছে। পাথরের চূড়া মাপতে হবে বরফের নয়।
সে হিসাব করলে এখন এভারেস্টের উচ্চতা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৮৪৪ দশমিক ৪৩ মিটার। নেপালের দাবি এভারেস্টের উচ্চতা আট হাজার ৮৪৮ মিটার।
নেপালের দাবি করা উচ্চতাটি ১৯৫৪ সালে ভারতীয় জরিপকারীদের দেয়া। সে সময় জরিপ দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বি এল গুলাতি।
এর আগে ১৮৫২ সালে অপর ভারতীয় জরিপকারী রাধানাথ শিকদার জানিয়েছিলেন ১৫ নম্বর চূড়াটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় চূড়া। এটি নেপাল ও চীনের সীমান্তের মধ্যে পড়েছে। সেই ১৫ নম্বর চূড়াটিকেই পরবর্তীতে এভারেস্ট নাম দেয়া হয়।
এ মাসের শুরুতে বিষয়টি নিয়ে চীন ও নেপাল সীমান্তর্বতী এক বৈঠক ডাকে। এতে মূল বিষয় ছিল এভারেস্টের উচ্চতা। পরে নেপালের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।
২০০৫ সালে চীন প্রথমবারের মতো এভারেস্টের উচ্চতা ঘোষণা করে। পরে নেপালকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখার জন্য আহ্বান জানায় চীন।
কিন্তু এর আগে ১৯৭৫ সালে যখন চীন নেপাল সীমান্ত চুক্তি সাক্ষরিত হয় তখন চীন এভারেস্টের উচ্চতা আট হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৩ মিটার মেনে নিয়ে চুক্তি সাক্ষর করেছিল।
বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলে আমেরিকার ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি। জিপিএস টেকনোলজি ব্যবহার করে জানায়, এভারেস্টের উচ্চতা এখন আট হাজার ৮৫০ মিটার।
পাকিস্তানে আবারো মার্কিন ড্রোন হামলাঃ নিহত ১৩

১৮ ফেব্রুয়ারি: পাকিস্তানে গতকাল দু'দফা মার্কিন ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপেক্ষ ১৩ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরান শাহের নিকটবর্তী আফগান সীমান্ত সংলগ্ন পালগা গ্রামের একটি বাড়িতে বৃহস্পতিবার দুই দফা ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফা হামলায় কমপক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে পাঁচ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়। দ্বিতীয় দফা হামলায় চারজন নিহত হয়। পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতীয় এলাকা উত্তর ওয়াজিরিস্তান তালেবান যোদ্ধাদের বিচরণ ভূমি হিসেবে পরিচিত।
গত সপ্তাহেও একই স্থানে অনুরূপ এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েক পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধা ছিল বলে জানান স্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানে পরিচালিত ড্রোন কার্যক্রম সম্বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করে না। এ ধরনের হামলায় গত কয়েক বছরে দেশটিতে শত শত লোক নিহত হয়। যদিও নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
তিস্তাচুক্তি: মমতাকে রাজি করানোর চেষ্টা
১৯ ফেব্রুয়ারি: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যে শনিবার এক বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
তবে মনে করা হচ্ছে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে যাতে মমতা ব্যানার্জি সম্মতি দেন, সেটা বোঝানোই মি. মাথাইয়ের এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই বলেন, ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে- কথা হয়েছে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয় নিয়েও। এই বৈঠক সন্তোষজনক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মি. মাথাই।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি ।
উল্লেখ্য, গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতেই তিস্তা নদীর জলবন্টন চুক্তি সই হওয়া আটকে যায়।
তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে দিল্লি থেকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জির কাছে দূত পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এখনও এরকম কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে মমতা ব্যানার্জি তার ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে আসছেন।
নদী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তিনি যে রিপোর্ট তৈরি করাচ্ছেন তিস্তার পানিপ্রবাহের ব্যাপারে-সেই রিপোর্ট এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তবে মমতা ব্যানার্জি যে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি করে বাংলাদেশকে পানি দিতে রাজি হবেন না সেই অবস্থানেই তিনি এখনও অনড় রয়েছেন।
মমতা ব্যানার্জি তার ঘনিষ্ঠ মহলে বলছেন, তিস্তা বা ছিটমহলের চেয়েও তাঁর সবচে বড় চিন্তা হলো- ফারাক্কা ব্যারাজের দুটি লকগেট দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশের দিকে যে বিপুল পরিমাণ পানি চলে যাচ্ছে আর পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষত ভাগিরথী নদীতে পানিপ্রবাহ খুবই কমে গেছে সে বিষয়টি।
ফারাক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাব বজায় রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ইস্যুকে মানুষের তৈরি বিতর্ক ব্যাখ্যা দিয়ে শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে ফের চিঠি দেন তিনি। চিঠিতে তার স্পষ্ট অভিযোগ, ফারাক্কা ব্যারেজের জলে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হন। ফরাক্কা ব্যারেজ নিয়ে ওই রিপোর্টে অভিযোগ, স্লুইস গেট খারাপ বলে বাংলাদেশকে অনেক বেশি পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে রাজ্য সরকারের পক্ষে এই চুক্তি মেনে নেয়া অসম্ভব।
গত বছর ব্যারেজে দু’টি স্লুইস গেট অকেজো হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশ প্রায় ৮২ হাজার কিউসেক পানি পেয়ে যায় গোটা বছরে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী তাদের পাওয়ার কথা ৩৫ হাজার কিউসেক পানি। রিপোর্টে আশঙ্কা, এই হারে পানি বেরিয়ে গেলে জলের স্তর এতটা নেমে যাবে যে এনটিপিসি-র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। যার ফলে রাজ্য জুড়ে বিদ্যুৎ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপর্যয় দেখা দেবে।
মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্র: বিবিসি।
ইরানে হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ: জাপানের প্রধানমন্ত্রী
১৭ ফেব্রুয়ারি: জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিকো নোদা ইরানে হামলার পরিণতির বিষয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বুধবার জাপান সফররত ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদ বারাকের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেছেন, ইরানে হামলার পরিণতি হবে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ এবং তা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এর আগে রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইরানে হামলার পরিণতির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে বলে চলতি মাসের শুরুতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন।
পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে ইসরাইলের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
তবে ইরান সব সময় বলে আসছে, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহারের জন্য পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ এখন পর্যন্ত ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে এমন কোন আলামত খুঁজে পায়নি।
বিশ্বখবর