দুরন্ত রাজশাহীর দুরন্ত জয়যাত্রা

১৯ ফেব্রুয়ারি: দুরন্ত রাজশাহীর জয়রথ থামাতে পারছে না কেউ। শনিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিজেদের মাটিতে চট্টগ্রাম কিংসকে ৯ রানে হারিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। সেই সাথে দুরন্ত রাজশাহী তাদের প্রথম খেলায় চট্টগ্রামের সাথে হারের প্রতিশোধও নিয়ে নিলো। এ জয়ের ফলে টানা চতুর্থ ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখালো দুরন্ত রাজশাহী।
বিপিএলে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর টানা চার ম্যাচ জিতে দুরন্ত রাজশাহী সংগ্রহ আট পয়েন্ট। বিপিএলে প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের কাছে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে বরিশালের কাছে হেরে যায় দুরন্ত রাজশাহী। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি দুরন্ত রাজশাহী। দুর্দান্তে খেলে একে একে সিলেট, খুলনা এবং ঢাকাকে হারানোর পর শনিবার চট্টগ্রাম জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফিরতি পর্বের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৯ রানে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয়ের স্বাদ পায় মুশফিকুর রহিম বাহিনী।
বিপিএলের ফিরতি পর্ব যুদ্ধ শুরুর প্রথম ম্যাচেই সব হিসাব উল্টে দিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। কারণ ১২৬ রানের লো-স্কোরিং ম্যাচে রাজশাহী ফর্মে থাকা চট্টগ্রামকেই তাদের নিজেদের মাটিতে তাদের দর্শকদের সামনে হারের স্বাদ গ্রহণে বাধ্য করে।
এই ম্যাচে হেরেও চট্টগ্রাম বিপিএলে নিজেদের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে রেখেছে নিট রান রেটের হিসাবে। ৬ ম্যাচে ৪টি জয় আর ২টি ম্যাচে হেরেছে চট্টগ্রাম। সমান সংখ্যক ম্যাচে জয় তুলে রাজশাহী রান রেটে পেছনে থাকায় বিপিএলে এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় দল।
বিপিএলের ফিরতি পর্বে নিজেদের মাটিতেই হারের স্বাদ নিতে বাধ্য করল দুরন্ত রাজশাহী। প্রথম পর্বে ঢাকার কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল চট্টগ্রাম। এরপর টানা ৪ ম্যাচে জয় তুলে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে ছিল। শনিবার রাতের ম্যাচে দুরন্ত রাজশাহীর জয় রুখতে পারেনি চট্টগ্রাম। রাজশাহী দলের মালিক পক্ষ অবশ্য আগেই ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করতে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
মামুলি সংগ্রহের ম্যাচটিকেও রাজশাহীর বোলাররা শেষ বল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় উত্তেজনার মধ্যে দিয়েই। ৬ বলে ১২ রান দরকার ছিল চট্টগ্রামের জয়ের জন্য। ২০ ওভারের শেষ দুই বলেই দরকার ছিল দুইটি ছক্কার মার। তবে তা পারেনি চট্টগ্রামের মারকুটে ব্যাটসম্যান ফরহাদ রেজা। আগের ম্যাচেও রাজশাহী একইভাবে বোলিং করেই ঢাকাকে হারিয়েছিল।
চট্টগ্রামের মাটিতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত মুশফিকদের পক্ষে যায়নি। কারণ রাজশাহী ২০ ওভার শেষে সংগ্রহ করেছে মাত্র ১২৬ রান ৬ উইকেটের বিনিময়ে।
রাজশাহীর ওপেনার শাহজাইব হাসানের ২০ স্পিনার কুপার আর জুনায়েদ সিদ্দিকীকে তার ব্যক্তিগত ৩ রানে ব্রাভো সাজঘরে ফেরত পাঠালে স্কোর দাঁড়ায় ৩.৫ ওভারে ৩৫ রান। ওয়ানডাউনে খালিদ লতিফ ১৫ বলে ১৪ রান যোগ করে চাপ কাটানোর চেষ্টা বিফল করে দেন আরাফাত সানী। কিন্তু রাজশাহীর ভরসার প্রতীক সেম্যুয়েলসকে দলীয় ৪৭ রানে আর তার নিজস্ব ৬ রানে সেই সানী বোল্ড করলে জানা হয়ে যায় আজ দিনটা রাজশাহীর নয়।
আগের ম্যাচে ঢাকাকে ১৪ রানে হারানো রাজশাহীকে আজ খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ৫ম উইকেটে আবদুল রাজ্জাক ১৯ রান করে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। তাকেও সানী ১৪.৩ ওভারে সরাসরি বোল্ড করে ফেরত যেতে বাধ্য করেন। ক্রিজে তখন অধিনায়ক মুশফিক ও সাব্বির রহমান।
শেষ পর্যন্ত মুশফিক অপরাজিত থাকলেও সাব্বির কুপারের বলে ব্রাভোর হাতে বন্দি হন ১২ বলে ১৭ রানে। ১৭.৪ ওভার থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত ১৪ বল মুশফিক বার মুক্তার আলী জুটি টেনে নেয় রাজশাহীকে। মুক্তার আলী ৯ বলে ১৬ রানে আর মুশফিক ২৫ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ ওভারে ১৩ রানে সানীর ৩ উইকেট শিকারই মূলত রাজশাহীকে কম রানে বেঁধে ফেলতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্পিনার কুপার শিকার করেন ১৭ রানে ২ উইকেট।
১২৭ রানের মামুলি টার্গেট তাড়া করতে চট্টগ্রাম আজও ওপেনার তামিমকে ছাড়াই মাঠে নামে।
চট্টগ্রামের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান নাসির জামসেদ আর জহুরুল ইসলাম ৪০ রান পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু জহুরুল ইসলাম দলীয় ৪০ রানে আর তার ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফিল্ডার মুক্তার আলীর থ্রোতে রান আউট হন। ব্যক্তিগত ২০ রানে নাসির জামসেদ সাকলাইন সজিবের বলে বোল্ড হলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় চট্টগ্রাম।
ওপেনারদ্বয় তেমন কিছু করতে না পারলেও মিডল অর্ডারও পারবে না এমন তো নয়। জেসন রায় আর জিয়াউর রহমান দুইজনেই দ্রুত আউট হন। রয় মাত্র ৫ রানে আর জিয়াউর রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরত গেলে বেশ চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। ৪ উইকেটে স্কোর তখন ৫৫ রান, আর ওভার শেষ হয়েছে ৮.২।
অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর শামসুর রহমান পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলকে পথের ঠিকানা খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। কিন্তু সেই চেষ্টাটা যদি আরো কিছুটা সময় রিয়াদ-শামসুর রহমান চালাতে পারতেন তাহলে হয়তো হারটা এড়াতে পারত চট্টগ্রাম।
রিয়াদ যখন ১৮ রান সংগ্রহ করে সেট হয়ে গেছেন তখনই সাব্বির রহমান মুক্তার আলীর হাতে রিয়াদকে ক্যাচে পরিণত করেন। অন্যদিকে সাব্বির ২৩ রান করে পেসার সামির বলে ফিরতি ক্যাচ তুলে বিদায় নেন। মাঝে ব্রাভো সামির বলেই ১ রান যোগ করে এলবি’র ফাঁদে কাটা পড়েন। ৭ উইকেটে ৯৮ রান। ওভার শেষ ১৫.৪। আর ১৭ ওভার শেষে স্কোর ১০১ রান ৮ উইকেটে।
ম্যাচের এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১২ বলে ১৯ রানের। কারণ ১৮ ওভার শেষে চট্টগ্রাম স্কোরে যোগ করে ১০৮ রান। ১৯তম ওভারে রাজ্জাকের আক্রমণের সামনে চট্টগ্রাম ৬ বলে ৭ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি। আর শেষ ওভারে ৬ বলে ১২ রান দরকার। পেসার সামির সামনে ফরহাদ রেজা আর আরাফত সানী কিছুই করতে পারেনি। সামি শেষ ওভারে মাত্র ২ রান দেন। চট্টগ্রাম ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৭ রান সংগ্রহ করে।
মূলত সাকলাইন সজিব ২২ রানে ৩টি আর মোহাম্মদ সামির ১৬ রানে ২টি উইকেট শিকারই চট্টগ্রামকে হারের স্বাদ পাইয়ে দেয়।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পান সাকলাইন সজিব।

