দুরন্ত দুরন্ত রাজশাহী !
১৭ ফেব্রুয়ারি: ঢাকার জয় রুখে দিয়েছে দূরন্ত রাজশাহী। বৃহস্পতিবার মিরপুরে রাতের ম্যাচে টস জিতে ঢাকা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল অবশ্যই আলোচনার বিষয়। কারণ রাজশাহী ৯ উইকেটে ১৪৪ রানের মাঝারি স্কোরকে টপকে যেতে ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা।
১৪৫ রানের মাঝারি স্কোর তাড়া করতে গিয়ে ঢাকা শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে ১৪ রানে হেরে গেছে ঢাকা। মূলত মিডল অর্ডারে আশরাফুল আর কিরন পোলার্ডের ব্যর্থতায় হেরেছে ঢাকা। এমনকি শেষদিকে এক সময়ের হার্ড হিটার আফতাবও কিছু করতে ব্যর্থ হন। উল্টো দূরন্ত রাজশাহীর পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ সামি বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখান।
আর এই হারের ফলে ঢাকা চট্টগ্রামের সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান থেকে নেমে গেছে। ঢাকা ৫ ম্যাচে ৩টি জয় একইভাবে রাজশাহী ৫ ম্যাচে ৩টি জয় পেয়েছে। চট্টগ্রাম এককভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে ৫ ম্যাচে ৪টি জয় তুলে নিয়ে।
আর টসে হেরে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার দলীয় ৪৩ রান পর্যন্ত টিকে ছিলেন। জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৫ রানে ইলিয়াস সানীর বলে ক্যাচে পরিণত হন। আর ৯ রান পর অপর ওপেনার শাহজাইব হাসান ব্যক্তিগত ২৩ রানে সেই সানীর বলেই এলবি’র ফাঁদে কাটা যান। আর মিডল অর্ডারে সেম্যুয়েলস করেন কার্যকরী ৩৬ রান।
তবে অধিনায়ক মুশফিক মাত্র ১০ রানে পোলার্ডের বলে মোশাররফ রুবেলের হাতে ক্যাচ দিলে ঢাকার দর্শকরা আনন্দে মেতে উঠে। কারণ তখন জানা হয়ে গেছে রাজশাহীর স্কোর খুব বেশি বড় হতে পারবে না। ১০.৪ ওভারে ৪ উইকেটে রান ৬৯!
তারপরও আশা ছিল পাকিস্তানী অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক আর সাব্বির রহমানের ব্যাটে। দুইজনই ঢাকার দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কারণে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরত যান। রাজ্জাক আশরাফুলের থ্রোতে ব্যক্তিগত ৭ রানে (দলীয় ৯০ রান) আর সাব্বির ব্যক্তিগত ১৫ রানে (দলীয় ১১৯ রানে) রান আউট হন।
১৭ ওভার শেষে স্কোর ১১৯ রান আর উইকেট পতন ঘটেছে ৬টি। স্বাভাবিকভাবেই শেষদিকের ৩ উইকেটে বেশি আশা না করাই ভাল।
মুক্তার আলী ৩, সামী ৮, মনির হোসেন ও সাকলাইন সজিব শূন্য রান। ইলিয়াস সানী ও নাজমুল হোসেন দুই জনেই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
ঢাকা ১৪৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৩ রান যোগ করে স্কোর বোর্ডে। ইমরান নাজির ১৩ বলে ২১ আর আনামুল হক বিজয় ১১ বলে ৫ রান করেন। ওভার তখন ৪.৩। কিন্তু আনামুল হক বেশি আক্রমণে গিয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন। ২২ বলে ২০ রান করা আনামুল মুশফিকের কাছে স্ট্যাম্পিং হন সাকলাইন সজিবের বলে।
১ উইকেটে ঢাকার সংগ্রহ ৬ ওভারে ৪২ রান। ক্রিজে আসনে আশরাফুল। জুটি বাঁধেন ইমরান নাজিরের সঙ্গে। ২য় উইকেট জুটিতে এ দুই জন ঢাকাকে ১৯ রানের বেশি উপহার দিতে ব্যর্থ হন। কারণ আশরাফুল মনির হোসেনের বলে কাট করতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান ব্যক্তিগত ১১ রানে। এক পর্যায়ে জয়ের জন্য ৫৭ বলে ৮০ রানের প্রয়োজন হয় ঢাকার।
আর ঐ অবস্থায় ঢাকার দলীয় ৮১ রানে সেই মনির হোসেনই কারভেজিকে ফেরত পাঠান বোল্ড করে। কিন্তু কিরন পোলার্ড ক্রিজে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। অবশ্য পরিস্থিতি কঠিনই ছিল। কারণ ৬৪ রান দরকার জয়ের জন্য আর বল বাকি ৪০টি। হাতে ছিল ৭টি উইকেট।
ঢাকার ১৫ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৮৯। আর ১৬তম ওভারে আবদুল রাজ্জাকের ওভারে কিরন পোলার্ড আর ইমরান নাজির জুটি ১১ রান যোগ করলে স্কোর শতকে পৌঁছায়। জয়ের জন্য তখনও ২৪ বলে ৪৫ রান দরকার।
রাজশাহীর মূল টার্গেটই ছিল পোলার্ডকে বিদায় করা। তাইতো মুশফিক বল তুলে দিলেন সেম্যুয়েলসের হাতে। আর ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই ১৪ বলে ১৬ রান করা পোলার্ড ক্যাচ দিলেন ফিল্ডার লতিফের হাতে।
কিন্তু সামির করা ১৮তম ওভারে স্টিভেন ২টি আর ইমরান নাজির ১টি বাউন্ডারি হাঁকালে খেলা জমে ওঠে। এই ওভারে আসে ১৪ রান।
টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ঢাকার জয়লাভে দরকার ১২ বলে ২৬ রান। ইমরান নাজির ৪০ বলে ৪৯ রানে ফিফটির অপেক্ষায়।
বল হাতে আক্রমণে আবদুল রাজ্জাক। ৪১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে ইমরান ফিফটি পূর্ণ করেন।
রাজ্জাক ২,১,১,১,০,০ অর্থাৎ ৬ বলে ৫ রান দিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে ৬ বলে ২১ রান অসম্ভব নয়। তবে কঠিন।
কিন্ত শেষ ওভারে বোলার সামি স্টিভেনকে বোল্ড করে জয়টা আরও কাছে নিয়ে আসেন। কারণ ৪ বলে ১৮ রান দরকার। কে জানতো সামি হ্যাট্রিক করবেন!
স্টিভেনের পর নতুন ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ ক্রিজে এসেই সামির বলে বোল্ড হলেন। পর পর দুই উইকেট পেলেন সামি। ৩ বলে ১৮ আর স্কোরে জমা করা সম্ভব হয়নি ঢাকার পক্ষে। কারণ সামী তার ওভারের চতুর্থ বলেই করেন বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক করার ইতিহাস।
নাভেদুল হাসানকে বোল্ড করার সঙ্গে সঙ্গে সামির সঙ্গে নেচে ওঠে খেলা দেখতে আসা মিরপুরের হাজার হাজার সমর্থক। তবে ইমরান নাজির ৪৫ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ঢাকা দুরন্ত রাজশাহীর ক্যারিবীয় ক্রিকেটার মারলন স্যামুয়েলস।
১৭ ফেব্রুয়ারি বিপিএল-এর কোনো খেলা নেই। ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে দুটি ম্যাচ। ওইদিনের প্রথম ম্যাচে দুপুর দুইটায় মুখোমুখি হবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম কিংস ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। একই মাঠের দিনের দ্বিতীয় খেলায় মোকাবেলা করবে বরিশাল বার্নার্স ও সিলেট রয়্যালস।

