দুরন্ত রাজশাহী: কুল খুঁজে পেলো
১৫ ফেব্রুয়ারি: ডুবন্ত জাহাজের নাবিক যেমন অথৈই সাগরে কুল কিনারা খুঁজে পেতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, তেমন অবস্থা ছিল দুরন্ত রাজশাহীর। কারণ প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বিপিএলের তলানিতে অবস্থান করছিল তারা। জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না তাদের।
মিরপুরের উইকেটে পর পর দুই ম্যাচে হারা রাজশাহী কুল-কিনারা খুঁজতেই সিলেটের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। অবশ্য দুই ম্যাচে হেরে সিলেটেরও একই অবস্থা ছিল। তাদেরও জেতাটা ছিল জরুরি।
সিলেট সফল হয়নি। ১৬ রানে হারিয়ে রাজশাহী বিপিএলে কুল খুঁজে পেয়েছে। আর এই হারের ফলে সিলেট তিন ম্যাচে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে।
টস জিতে দুরন্ত রাজশাহী ব্যাট করে কিছুটা হলেও দলকে এগিয়ে নিয়েছে। কারণ আগের দুই ম্যাচে টস হেরে পরে ব্যাট করে হেরেছে রাজশাহী। কিন্তু আজ জয়ের কোন বিকল্প ছিল না মুশফিকের দুরন্ত রাজশাহীর। ২০ ওভারের কোটা শেষ করে রাজশাহীর সংগ্রহ করে ১৭১/৮।
কিন্তু দুরন্ত রাজশাহীর ক্রিকেটারদের জয়ের জন্য দুরন্ত শারীরিক ভাষাই বলে দিয়েছে আজ তারা যেকোনো মূল্যেই জয় চায়। আর সন্ধ্যার কিছু আগে শেষ হওয়া ম্যাচে রাজশাহীর দুরন্ত ফিল্ডিং আর বোলিংয়ের সামনে সিলেট ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ৪ উইকেটে ১৫৫ রান।
রাজশাহীর টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও মিডিল অর্ডারের সফলতায় ১৭১ রান সংগ্রহ করে মুশফিকের দল। বিপিএলে রাজশাহী নিজস্ব দ্বিতীয় ম্যাচে ওপেনার মিজানুর রহমান ৬৫ রান করলেও আজ তিনি ৫ রানেই ফেরত যান।
পাকিস্তানী বোলার সোহেল তানভিরের বলে কামরান আকমলের হাতে ক্যাচ দিলেন মিজানুর। আর অপর ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ১১ রানেই ফেরত যান সেই সোহেলের বলেই।
কিন্তু তৃতীয় উইকেট জুটিতে সেম্যুয়েলস আর অধিনায়ক মুশফিক দলের রান বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাপটাও কাটিয়ে নেন। ১১.২ ওভারে মুশফিক যখন ফেরত যান তখন দলের স্কোর ৮১ রানে ৩ উইকেট। এই জুটি রাজশাহীকে ৫৬ রানের পার্টনারশীপ এনে দেয়। তখনও মুশফিকের পার্টনার সেম্যুয়েলস ক্রিজে ছিলেন। মুশফিক ২১ বলে ১টি চার ও ২টি ছয় দিয়ে করেন ৩৩ রান।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে সেম্যুয়েলস-এর সঙ্গে জুটি বাধেন আব্দুল রাজ্জাক। এই জুটি রাজশাহীকে ৫৩ রানের পার্টনারশীপ উপহার দেয়। এই জুটিকে ভাঙ্গতে আইকন ক্রিকেটার অলক কাপালিই সফল হন। ৭২ রান করা সেম্যুয়েলকে অলক দলীয় ১৩৪ রানে সাজঘরের পথ দেখান ইমরম্নলের সাহায্যে।
তবে রাজ্জাক শেষদিকে তেমন কোনো জুটি তৈরি করতে পারেনি লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায়। তবে তিনি একাই লড়াই করে যান। রাজ্জাক ১টি চার ও ২টি ছয় দিয়ে সাঁজানো ইনিংস শেষ হয় পিটারের বলে উইকেটরক্ষক কামরান আকমলের গ্লাভসে বন্দি হয়ে। সাব্বির হমান শূন্য, কায়সার আব্বাস ৬, মোহাম্মদ সামী শূন্য রানে ফেরত যান। ফাওয়াদ আলম ২ ও সৈয়দ রাসেল ৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষদিকে দৃঢ়তা দেখান বলেই স্কোর ১৭১ রানে পৌছায়।
অলক কাপালি ২৭ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট, আর সোহেল তানভির ও পিটার ট্রেগো ২টি করে এবং নাঈম ইসলাম নেন ১টি উইকেট।
১৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে দলীয় ৩২ রানেই ইমরুল কায়েসকে হারায় (ব্যক্তিগত ২২) সিলেট। অবশ্য অপর ওপেনার পাকিস্তানী কামরান আকমল দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক পিটারকে সঙ্গী করে অনেকটা এগিয়ে যান। তিনি ৪১ বলে ৫৬ রানে থামেন। তাকে ফাওয়াদ আলম সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন।
দলীয় রান ৩২ থেকে ১০৩ পর্যন্ত পিটার ও ফাওয়াদ টেনে নেন। আর পিটার সাকলাইন সজিবের বলে জুনায়েদের হাতে ধরা পড়েন। এরপর অলক কাপালি আর সোহেল তানভির এগিয়ে যান।
৩ উইকেটে সিলেটের একসময় স্কোর ছিল ১২০ রান। ১৫ ওভার শেষে ঐ স্কোরের বিপরীতে ছিল ৫ ওভারে ৫২ রান হলে সিলেট জিতে।
এক পর্যায়ে চতুর্থ উইকেটে এই জুটি দলকে ১৪৪ পর্যন্ত টেনে নেয়। ২১ বলে ৪৪ দরকার জয়ের জন্য। শেষদিকে ১৭ বলে ৩৪ রান যখন দরকার তখন অলক কাপালি মেরে খেলতে চেষ্টা করেন। সামীর বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিফ অফে অলক কাপালিকে অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরে ফেরত পাঠান ফাওয়াদ আলম। ৯ বলে ১৪ রান আসে অলক কাপালির ব্যাট থেকে। এবার এলেন ছক্কা নাইম। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না সিলেটের। সোহেল তানভির ১২ আর নাইম ৯ রানে অপরাজিত রইলেন।
দুরন্ত রাজশাহীর ক্যারিবীয় ক্রিকেটার মারলন স্যামুয়েলস ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।

