মিসরে ফুটবল দলের ভক্তদের সংঘর্ষে নিহত ৭৪
২ ফেব্রুয়ারি: মিসরে দুটি ফুটবল দলের ভক্তদের সংঘর্ষে অন্তত ৭৪ জন নিহত এবং এক হাজারের মতো লোক আহত হয়েছেন। বুধবার দেশটির বন্দর সৈয়দ শহরের স্টেডিয়ামে এ ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্টেডিয়াম এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বন্দর সৈয়দ শহরের ওই স্টেডিয়ামে বুধবার আল আহলি ও আল মারসি দলের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আল মারসি ৩-১ ম্যাচ জয় করে। বিজয়ী হওয়ার পর মারসি সমর্থকরা আল আহলি’র খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন খেলোয়াড়সহ ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দেশটির স্বরাষ্টমন্ত্রী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তত ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে তিনি বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে আরো কারা জড়িত ছিল তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
মিসরের ক্ষমতাসীন সেনা কাউন্সিলের প্রধান ফিল্ড মার্শাল হুসেন তানতাবি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মিসরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। বেসামরিকদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আমাদের একটি রোডম্যাপ আছে। সুতরাং দেশে কেউ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তারা সফল হবে না।”
সরকারি টেলিভিশনে বলা হয়েছে, বুধবারের ওই সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টের একটি বিশেষ অধিবেশন বসবে। সরকারি আইনজীবীরা ঘটনার তদন্ত করে এর নায়কদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড অভিযোগ করে বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের সমর্থকরা এ ধরনের সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে। এসাম আল এরিয়ান নামের এক সংসদ সদস্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির ওয়েবসাইটে বলেছেন, পোর্ট সৈয়দের ঘটনা পরিকল্পিত, যা হোসনি মুবারকের অবশিষ্ট সমর্থকদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।
এদিকে, ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “ফুটবলের ইতিহাসে এটি একটি কালো অধ্যায়।”

