হোমপেজ খেলাধুলা

খেলাধুলা

কক্সবাজারে দুরন্ত রাজশাহী

 
 


২১ ফেব্রুয়ারি: বিপিএলে চট্টগ্রাম মিশন বেশ ভালোভাবেই শেষ করলো মুশফিকুর রহিমের দুরন্ত রাজশাহী। বিপিএলে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর ঢাকায় টানা তিন ম্যাচে জয় পায় দুরন্ত রাজশাহী। এরপর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পৌঁছে দুরন্ত দুর্বার দুরন্ত রাজশাহী।

চট্টগ্রামে পরপর আরো দুটি ম্যাচ জিতে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন দুরন্ত রাজশাহী। আগের দিন চট্টগ্রামের মাটিতে চট্টগ্রাম কিংসকে হারানোর পর সোমবার বিপিএলের শক্তিশালী দল বরিশালকে ৯ উইকেটে বিধ্বস্ত করে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দুরন্ত রাজশাহী।

চট্টগ্রামে দুরন্ত রাজশাহীর আর কোনো খেলা নেই। মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহী দল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হয়েছে। বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা পুরো দলকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর পুরো দল চলে গিয়েছে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ফিরে আসবে দুরন্ত রাজশাহী।

২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুরন্ত রাজশাহী মুখোমুখি হবে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা সিলেট রয়্যালসের।

 

দুরন্ত রাজশাহীর দুরন্ত জয়

 
 


২০ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর ১৯তম ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে বরিশাল বার্নার্সকে হারিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। ১৯৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ১৭ বল বাকি থাকতে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে তাদের লক্ষ্যে পৌছে যায়।

 ওপেনিং জুটিতে জুনাইদ সিদ্দিকী ও সাজিব হাসান প্রথম ৬ ওভারে ৯৩ রান করে জয় সহজ করে দেন। সাজিব হাসান ২২ বলে ৪৬ রান করে স্বদেশী আহমেদ শেহজাদের বলে আউট হন।

 জুনাইদ সিদ্দিকী তার ক্যারিয়ার সেরা ৫১ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। মারলন অপরাজিত ৫৪ রানে। তিনি বল খেলেছেন ৩০ টি। রাজশাহীর একমাত্র উইকেটটি পান আহমেদ শেহজাদ। 

 টসে জিতে বরিশাল বার্নার্স প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে।

 কোনো রান করার আগেই মোহাম্মদ সামির বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ব্রাড হজ। তারপর আহমেদ শেহজাদ ও ফিল মুসটার্ড ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেন।

 শেহজাদ ৪৪ রান করে আউট হলেও ৫৮ বলে ৮৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া রমিজ রাজা (জুনিয়র) ২৬ ও মিথুন আলী ২১ রান করেন।

 রাজশাহীর পক্ষে সামি, মনির হোসেন ও সাব্বির রহমান ১ টি করে উইকেট পান।

কিংসের মাঠে দুরন্তরা

 
 

১৮ ফেব্রুয়ারি: চিটাগাং কিংসের জন্য আজকের ম্যাচটা একটু অন্যরকম। এবারের বিপিএলে একমাত্র ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটরস ছাড়া আর কোনো দল নিজের শহরে খেলার সুযোগ পায়নি। ঢাকার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে চিটাগাং আজ নিজেদের মাঠে খেলবে। পাঁচ ম্যাচ খেলে চার জয়ে পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে চিটাগাং কিংস। এর ওপর নিজেদের মাঠে খেলা। স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত ফুরফুরে মেজাজে খেলতে নামবে তারা। তবে এমন আবেগের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো দুরন্ত রাজশাহী। তাই নিজেদের মাঠে খেলার আনন্দ দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার শঙ্কা আছে। প্রথম পর্বে ফলাফল অবশ্য কিংসদের পক্ষে ছিল। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে ৫৩ রানে তারা হারিয়েছিল দুরন্ত রাজশাহীকে।

প্রথম দুটি ম্যাচ হারার পর বিপুল বিক্রমে ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। প্রথমে সিলেট রয়্যালসকে হারায় তারা। এরপর খুলনা রয়েল বেঙ্গলস এবং ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটরসের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দিয়েছে রাজশাহীর দুরন্তের দল। শেষ ম্যাচটি জিতে তো তারা টুর্নামেন্টের হিসাব-নিকাশই অনেকটা পাল্টে দিয়েছে। বলতে গেলে এখন পাঁচ দলের জন্যই টুর্নামেন্ট ওপেন।

 তবে প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডিন জোন্স এবং ব্যাটিং কোচ মাইকেল বেভানের তত্ত্বাবধানে চিটাগাং যেভাবে সংগঠিত হয়ে উঠছে তাতে রাজশাহীর কাজটা মোটেও সহজ হবে না। এর ওপর আজ ঘরের মাঠে নামতে পারেন চিটাগাংয়ের ছেলে তামিম ইকবাল। অবশ্য তামিমের মাঠে নামা নিয়ে একটা গুজবও আছে। কোচিং স্টাফদের কারণেই নাকি তামিমের মাঠে নামা হচ্ছে না। পরশু বরিশাল বার্নার্সকে হারানোর পর ডিন জোন্স এ বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছেন, 'গ্রোয়েন ইনজুরির জন্যই সে খেলতে পারছে না। এ ছাড়া আর কোনো কারণ নেই। চট্টগ্রামে যাওয়ার পর আমরা আবার তার ফিটনেস টেস্ট নেব। সেখানে উত্তীর্ণ হলে অবশ্যই সে মাঠে নামবে।'

তবে জোন্স জানিয়েছেন, দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকায় তারা ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা চিন্তায় নেই। তাদের পাকিস্তানি ওপেনার নাছির জামশেদ ২৬১ রান করেছেন। রান সংগ্রহে গেইলের পরই আছেন তিনি। দুই খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে জহুরুল ইসলাম অমিও খারাপ করছেন না। টপ অর্ডারের সঙ্গে চমৎকার ফর্মে আছেন দলের স্পিনাররাও। এনামুল জুনিয়র, আরাফাত সানি, রিয়াদের সঙ্গে পেসার ডোয়াইন ব্রাভো এবং কেভিন কুপারও নিয়মিতই উইকেট শিকার করছেন। তবে ফিল্ডিং নিয়ে চিন্তায় আছে চিটাগাং টিম ম্যানেজমেন্ট।

দুরন্ত রাজশাহীর দুরন্ত জয়যাত্রা

 
 


১৯ ফেব্রুয়ারি: দুরন্ত রাজশাহীর জয়রথ থামাতে পারছে না কেউ। শনিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিজেদের মাটিতে চট্টগ্রাম কিংসকে ৯ রানে হারিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। সেই সাথে দুরন্ত রাজশাহী তাদের প্রথম খেলায় চট্টগ্রামের সাথে হারের প্রতিশোধও নিয়ে নিলো। এ জয়ের ফলে টানা চতুর্থ ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখালো দুরন্ত রাজশাহী।

বিপিএলে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর টানা চার ম্যাচ জিতে দুরন্ত রাজশাহী সংগ্রহ আট পয়েন্ট। বিপিএলে প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের কাছে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে বরিশালের কাছে হেরে যায় দুরন্ত রাজশাহী। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি দুরন্ত রাজশাহী। দুর্দান্তে খেলে একে একে সিলেট, খুলনা এবং ঢাকাকে হারানোর পর শনিবার চট্টগ্রাম জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফিরতি পর্বের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৯ রানে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয়ের স্বাদ পায় মুশফিকুর রহিম বাহিনী।

বিপিএলের ফিরতি পর্ব যুদ্ধ শুরুর প্রথম ম্যাচেই  সব হিসাব উল্টে দিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। কারণ ১২৬ রানের লো-স্কোরিং ম্যাচে রাজশাহী ফর্মে থাকা চট্টগ্রামকেই তাদের নিজেদের মাটিতে তাদের দর্শকদের সামনে হারের স্বাদ গ্রহণে বাধ্য করে।

এই ম্যাচে হেরেও চট্টগ্রাম বিপিএলে নিজেদের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে রেখেছে নিট রান রেটের হিসাবে।  ৬ ম্যাচে ৪টি জয় আর ২টি ম্যাচে হেরেছে চট্টগ্রাম। সমান সংখ্যক ম্যাচে জয় তুলে রাজশাহী রান রেটে পেছনে থাকায় বিপিএলে এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় দল।

বিপিএলের ফিরতি পর্বে নিজেদের মাটিতেই হারের স্বাদ নিতে বাধ্য করল দুরন্ত রাজশাহী। প্রথম পর্বে ঢাকার কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল চট্টগ্রাম। এরপর টানা ৪ ম্যাচে জয় তুলে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে ছিল। শনিবার রাতের ম্যাচে দুরন্ত রাজশাহীর জয় রুখতে পারেনি চট্টগ্রাম। রাজশাহী দলের মালিক পক্ষ অবশ্য আগেই ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করতে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

মামুলি সংগ্রহের ম্যাচটিকেও রাজশাহীর বোলাররা শেষ বল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় উত্তেজনার মধ্যে দিয়েই। ৬ বলে ১২ রান দরকার ছিল চট্টগ্রামের জয়ের জন্য। ২০ ওভারের শেষ দুই বলেই দরকার ছিল দুইটি ছক্কার মার। তবে তা পারেনি চট্টগ্রামের মারকুটে ব্যাটসম্যান ফরহাদ রেজা। আগের ম্যাচেও রাজশাহী একইভাবে বোলিং করেই ঢাকাকে হারিয়েছিল।

চট্টগ্রামের মাটিতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত মুশফিকদের পক্ষে যায়নি। কারণ রাজশাহী ২০ ওভার শেষে সংগ্রহ করেছে মাত্র ১২৬ রান ৬ উইকেটের বিনিময়ে।

রাজশাহীর ওপেনার শাহজাইব হাসানের ২০ স্পিনার কুপার আর জুনায়েদ সিদ্দিকীকে তার ব্যক্তিগত ৩ রানে ব্রাভো সাজঘরে ফেরত পাঠালে স্কোর দাঁড়ায় ৩.৫ ওভারে ৩৫ রান। ওয়ানডাউনে খালিদ লতিফ ১৫ বলে ১৪ রান যোগ করে চাপ কাটানোর চেষ্টা বিফল করে দেন আরাফাত সানী। কিন্তু রাজশাহীর ভরসার প্রতীক সেম্যুয়েলসকে দলীয় ৪৭ রানে আর তার নিজস্ব ৬ রানে সেই সানী বোল্ড করলে জানা হয়ে যায় আজ দিনটা রাজশাহীর নয়।

আগের ম্যাচে ঢাকাকে ১৪ রানে হারানো রাজশাহীকে আজ খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ৫ম উইকেটে আবদুল রাজ্জাক ১৯ রান করে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। তাকেও সানী ১৪.৩ ওভারে সরাসরি বোল্ড করে ফেরত যেতে বাধ্য করেন। ক্রিজে তখন অধিনায়ক মুশফিক ও সাব্বির রহমান।

শেষ পর্যন্ত মুশফিক অপরাজিত থাকলেও সাব্বির কুপারের বলে ব্রাভোর হাতে বন্দি হন ১২ বলে ১৭ রানে। ১৭.৪ ওভার থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত ১৪ বল মুশফিক বার মুক্তার আলী জুটি টেনে নেয় রাজশাহীকে। মুক্তার আলী ৯ বলে ১৬ রানে আর মুশফিক ২৫ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ ওভারে ১৩ রানে সানীর ৩ উইকেট শিকারই মূলত রাজশাহীকে কম রানে বেঁধে ফেলতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্পিনার কুপার শিকার করেন ১৭ রানে ২ উইকেট।

১২৭ রানের মামুলি টার্গেট তাড়া করতে চট্টগ্রাম আজও ওপেনার তামিমকে ছাড়াই মাঠে নামে।

চট্টগ্রামের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান নাসির জামসেদ আর জহুরুল ইসলাম ৪০ রান পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। কিন্তু জহুরুল ইসলাম দলীয় ৪০ রানে আর তার ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফিল্ডার মুক্তার আলীর থ্রোতে রান আউট হন। ব্যক্তিগত ২০ রানে নাসির জামসেদ সাকলাইন সজিবের বলে বোল্ড হলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় চট্টগ্রাম।

ওপেনারদ্বয় তেমন কিছু করতে না পারলেও মিডল অর্ডারও পারবে না এমন তো নয়। জেসন রায় আর জিয়াউর রহমান দুইজনেই দ্রুত আউট হন। রয় মাত্র ৫ রানে আর জিয়াউর রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরত গেলে বেশ চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। ৪ উইকেটে স্কোর তখন ৫৫ রান, আর ওভার শেষ হয়েছে ৮.২।

অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর শামসুর রহমান পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলকে পথের ঠিকানা খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। কিন্তু সেই চেষ্টাটা যদি আরো কিছুটা সময় রিয়াদ-শামসুর রহমান চালাতে পারতেন তাহলে হয়তো হারটা এড়াতে পারত চট্টগ্রাম।

রিয়াদ যখন ১৮ রান সংগ্রহ করে সেট হয়ে গেছেন তখনই সাব্বির রহমান মুক্তার আলীর হাতে রিয়াদকে ক্যাচে পরিণত করেন। অন্যদিকে সাব্বির ২৩ রান করে পেসার সামির বলে ফিরতি ক্যাচ তুলে বিদায় নেন। মাঝে ব্রাভো সামির বলেই ১ রান যোগ করে এলবি’র ফাঁদে কাটা পড়েন। ৭ উইকেটে ৯৮ রান। ওভার শেষ ১৫.৪। আর ১৭ ওভার শেষে স্কোর ১০১ রান ৮ উইকেটে।

ম্যাচের এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১২ বলে ১৯ রানের। কারণ ১৮ ওভার শেষে চট্টগ্রাম স্কোরে যোগ করে ১০৮ রান। ১৯তম ওভারে রাজ্জাকের আক্রমণের সামনে চট্টগ্রাম ৬ বলে ৭ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি। আর শেষ ওভারে ৬ বলে ১২ রান দরকার। পেসার সামির সামনে ফরহাদ রেজা আর আরাফত সানী কিছুই করতে পারেনি। সামি শেষ ওভারে মাত্র ২ রান দেন। চট্টগ্রাম ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৭ রান সংগ্রহ করে।

মূলত সাকলাইন সজিব ২২ রানে ৩টি আর মোহাম্মদ সামির ১৬ রানে ২টি উইকেট শিকারই চট্টগ্রামকে হারের স্বাদ পাইয়ে দেয়।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পান সাকলাইন সজিব।

 

দুরন্ত দুরন্ত রাজশাহী !

১৭ ফেব্রুয়ারি: ঢাকার জয় রুখে দিয়েছে দূরন্ত রাজশাহী। বৃহস্পতিবার মিরপুরে রাতের  ম্যাচে টস জিতে ঢাকা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল অবশ্যই আলোচনার বিষয়। কারণ রাজশাহী ৯ উইকেটে ১৪৪ রানের মাঝারি স্কোরকে টপকে যেতে ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা।

১৪৫ রানের মাঝারি স্কোর তাড়া করতে গিয়ে ঢাকা শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে ১৪ রানে হেরে গেছে ঢাকা। মূলত মিডল অর্ডারে আশরাফুল আর কিরন পোলার্ডের ব্যর্থতায় হেরেছে ঢাকা। এমনকি শেষদিকে এক সময়ের হার্ড হিটার আফতাবও কিছু করতে ব্যর্থ হন। উল্টো দূরন্ত রাজশাহীর পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ সামি বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখান।

আর এই হারের ফলে ঢাকা চট্টগ্রামের সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান থেকে নেমে গেছে। ঢাকা ৫ ম্যাচে ৩টি জয় একইভাবে রাজশাহী ৫ ম্যাচে ৩টি জয় পেয়েছে। চট্টগ্রাম এককভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে ৫ ম্যাচে ৪টি জয় তুলে নিয়ে।

আর টসে হেরে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার দলীয় ৪৩ রান পর্যন্ত টিকে ছিলেন। জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৫ রানে ইলিয়াস সানীর বলে ক্যাচে পরিণত হন। আর ৯ রান পর অপর ওপেনার শাহজাইব হাসান ব্যক্তিগত ২৩ রানে সেই সানীর বলেই এলবি’র ফাঁদে কাটা যান। আর মিডল অর্ডারে সেম্যুয়েলস করেন কার্যকরী ৩৬ রান।

তবে অধিনায়ক মুশফিক মাত্র ১০ রানে পোলার্ডের বলে মোশাররফ রুবেলের হাতে ক্যাচ দিলে ঢাকার দর্শকরা আনন্দে মেতে উঠে। কারণ তখন জানা হয়ে গেছে রাজশাহীর স্কোর খুব বেশি বড় হতে পারবে না। ১০.৪ ওভারে ৪ উইকেটে রান ৬৯!

তারপরও আশা ছিল পাকিস্তানী অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক আর সাব্বির রহমানের ব্যাটে। দুইজনই ঢাকার দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কারণে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরত যান। রাজ্জাক আশরাফুলের থ্রোতে ব্যক্তিগত ৭ রানে (দলীয় ৯০ রান) আর সাব্বির ব্যক্তিগত ১৫ রানে (দলীয় ১১৯ রানে) রান আউট হন।

১৭ ওভার শেষে স্কোর ১১৯ রান আর উইকেট পতন ঘটেছে ৬টি। স্বাভাবিকভাবেই শেষদিকের ৩ উইকেটে বেশি আশা না করাই ভাল।

মুক্তার আলী ৩, সামী ৮, মনির হোসেন ও সাকলাইন সজিব শূন্য রান। ইলিয়াস সানী ও নাজমুল হোসেন দুই জনেই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

ঢাকা ১৪৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৩ রান যোগ করে স্কোর বোর্ডে। ইমরান নাজির ১৩ বলে ২১ আর আনামুল হক বিজয় ১১ বলে ৫ রান করেন। ওভার তখন ৪.৩। কিন্তু আনামুল হক বেশি আক্রমণে গিয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন। ২২ বলে ২০ রান করা আনামুল মুশফিকের কাছে স্ট্যাম্পিং হন সাকলাইন সজিবের বলে।

১ উইকেটে ঢাকার সংগ্রহ ৬ ওভারে ৪২ রান। ক্রিজে আসনে আশরাফুল। জুটি বাঁধেন ইমরান নাজিরের সঙ্গে। ২য় উইকেট জুটিতে এ দুই জন ঢাকাকে ১৯ রানের বেশি উপহার দিতে ব্যর্থ হন। কারণ আশরাফুল মনির হোসেনের বলে কাট করতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান ব্যক্তিগত ১১ রানে। এক পর্যায়ে জয়ের জন্য ৫৭ বলে ৮০ রানের প্রয়োজন হয় ঢাকার।

আর ঐ অবস্থায় ঢাকার দলীয় ৮১ রানে সেই মনির হোসেনই কারভেজিকে ফেরত পাঠান বোল্ড করে। কিন্তু কিরন পোলার্ড ক্রিজে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। অবশ্য পরিস্থিতি কঠিনই ছিল। কারণ ৬৪ রান দরকার জয়ের জন্য আর বল বাকি ৪০টি। হাতে ছিল ৭টি উইকেট।

ঢাকার ১৫ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৮৯। আর ১৬তম ওভারে আবদুল রাজ্জাকের ওভারে কিরন পোলার্ড আর ইমরান নাজির জুটি ১১ রান যোগ করলে স্কোর শতকে পৌঁছায়। জয়ের জন্য তখনও ২৪ বলে ৪৫ রান দরকার।

রাজশাহীর মূল টার্গেটই ছিল পোলার্ডকে বিদায় করা। তাইতো মুশফিক বল তুলে দিলেন সেম্যুয়েলসের হাতে। আর ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই ১৪ বলে ১৬ রান করা পোলার্ড ক্যাচ দিলেন ফিল্ডার লতিফের হাতে।

কিন্তু সামির করা ১৮তম ওভারে স্টিভেন ২টি আর ইমরান নাজির ১টি বাউন্ডারি হাঁকালে খেলা জমে ওঠে। এই ওভারে আসে ১৪ রান।

টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ঢাকার জয়লাভে দরকার ১২ বলে ২৬ রান। ইমরান নাজির ৪০ বলে ৪৯ রানে ফিফটির অপেক্ষায়।

বল হাতে আক্রমণে আবদুল রাজ্জাক। ৪১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে ইমরান ফিফটি পূর্ণ করেন।

রাজ্জাক ২,১,১,১,০,০ অর্থাৎ ৬ বলে ৫ রান দিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে ৬ বলে ২১ রান অসম্ভব নয়। তবে কঠিন।

কিন্ত শেষ ওভারে বোলার সামি স্টিভেনকে বোল্ড করে জয়টা আরও কাছে নিয়ে আসেন। কারণ ৪ বলে ১৮ রান দরকার। কে জানতো সামি হ্যাট্রিক করবেন!

স্টিভেনের পর নতুন ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ ক্রিজে এসেই সামির বলে বোল্ড হলেন। পর পর দুই উইকেট পেলেন সামি। ৩ বলে ১৮ আর স্কোরে জমা করা সম্ভব হয়নি ঢাকার পক্ষে। কারণ সামী তার ওভারের চতুর্থ বলেই করেন বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক করার ইতিহাস।

নাভেদুল হাসানকে বোল্ড করার সঙ্গে সঙ্গে সামির সঙ্গে নেচে ওঠে খেলা দেখতে আসা মিরপুরের হাজার হাজার সমর্থক। তবে ইমরান নাজির ৪৫ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

 ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ঢাকা দুরন্ত রাজশাহীর ক্যারিবীয় ক্রিকেটার মারলন স্যামুয়েলস।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিপিএল-এর কোনো খেলা নেই। ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে দুটি ম্যাচ। ওইদিনের প্রথম ম্যাচে দুপুর দুইটায় মুখোমুখি হবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম কিংস ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। একই মাঠের দিনের দ্বিতীয় খেলায় মোকাবেলা করবে বরিশাল বার্নার্স ও সিলেট রয়্যালস।

By A Web Design