জামায়াতের মাহফিলে সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা!
২০ ফেব্রুয়ারি: জামায়াতের মাহফিলে সভাপতিত্ব করেছেন নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। জানা যায়, উপজেলার স্থানীয় ৯ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের দায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শনি ও রোববার মাওলানা মফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাওলানা মফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যারা এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করেন তারা সবাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ওই তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের মুক্তির ব্যাপারে সাংগঠনিক দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করা।
এদিকে দুই দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহর সভাপতিত্ব করা মানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা-এ অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সুশীল সমাজ ও অভিজ্ঞ মহল।
তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের যারা প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শরীয়াহ, রোকন বোর্ডের সাথী ও সদস্য।
উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, প্রধান অতিথি হিসেবে মাওলানা অধ্যক্ষ সাইয়্যেদ কামাল উদ্দিন জাফরী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শরীয়াহ বোর্ড ও রোকন বোর্ডের সদস্য এবং যুদ্ধাপরাধী অভিযোগে আটককৃত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বেয়াই। আর শাহ্ মিজানুল হক মামুন নোয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সদস্য এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় রোকন।
এছাড়া হাফেজ ফারুক আহমদ ফেনী জেলার জামায়াতে ইসলামীর রোকন ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি। তাছাড়া অন্যরাতো আছেই।
তারা বলেন, আমাদের প্রশ্ন হলো, যদি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহ মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতা হন তাহলে তিনি কিভাবে এ মাহফিলের সভাপতিত্ব করার মত দিয়েছেন? এ ঘটনায় প্রমাণিত হয় তিনি সব সময় পরিবেশ বুঝে কাজ করেন। আমরা সম্মিলিতভাবে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
এদিকে অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি একটি সামাজিক মাহফিল মনে করে গিয়েছিলাম। আমার জানা ছিল না এটি জামায়াত-শিবিরের কোনো মাহফিল। মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আমি বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হই।”

