তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ফেরার সুযোগ নেই: আওয়ামী লীগ
১৪ ফেব্রুয়ারি: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ব্যাপক প্রচারাভিযানে নামছে আওয়ামী লীগ। প্রচারপত্র ও পুস্তিকা এবং সংবাদ সম্মেলনসহ গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রচার চালানো হবে। এ প্রচারাভিযানে একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ক্ষমতাসীন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সময় নেতারা বলেছেন, আদালতের রায়ের কারণে বাতিল হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন, আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। একই রায়ে আরও বলা হয়েছে, সংসদ মনে করলে আরও দুই মেয়াদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে। সংসদই ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। দলীয় সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা বাতিল হয়নি। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা করতে হলে বিএনপিকে সংসদে এসেই করতে হবে। এ দাবি বাইরে তুলে কোনো লাভ হবে না। এ সময় নেতারা আরও বলেন, আগামী নির্বাচনকে
ঘিরে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। বর্তমান সরকারের গত তিন বছরে উপনির্বাচন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার নির্বাচন হয়েছে। এর কোনোটি নিয়েই কারচুপির অভিযোগ যেমন ওঠেনি, তেমনি সংঘাত কিংবা বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন থাকলে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে করা সম্ভব।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের একতরফা নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণার জবাবসহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কেন সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিও জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের ১২ মার্চের 'চলো চলো ঢাকা চলো' কর্মসূচি নিয়েও কিছুটা আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালন করলে কোনো আপত্তি থাকবে না। কর্মসূচির নামে কোনো অশান্তি কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে। সীমান্ত সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।
বৈঠকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাকসুর সাবেক ভিপি একেএম এনামুল হক শামীমকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য করা হয়। ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের একটি পদ শূন্য রয়েছে। কার্যনির্বাহী সংসদের একজন সদস্য এ পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন।
বৈঠকে সাংগঠনিকভাবে যার যেখানে দায়িত্ব রয়েছে সঠিকভাবে পালনের তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন তিনি।
এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম নগরী থেকে বন্দর পর্যন্ত সংযোগকারী উড়াল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে নগরীর যানজট নিরসনের স্বার্থে দ্রুত এটি চালু করা প্রয়োজন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সায় দিয়ে সেতু উদ্বোধনের পাশাপাশি সেখানকার 'পলো গ্রাউন্ড'য়ে একটি জনসভা করার বিষয়েও আগ্রহ দেখান। ১০ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে যে কোনো দিন এ জনসভা হতে পারে।
এছাড়া সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের দলীয় কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নেওয়া কয়েকটি কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর নতুন সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে অভিনন্দন জানান অন্য নেতারা।
প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর, কাজী জাফর উল্যাহ, রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সতীশ চন্দ্র রায় ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। বিশেষ আমন্ত্রণে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ জানান, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বেশ কিছু পর্যালোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনে করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট। এর বাইরে অসাংবিধানিক কোনো সরকারের প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, এ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনেই সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে ভোটাররা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। জনগণও এটি গ্রহণ করেছে।
ইভিএম নিয়ে দ্বৈতনীতি পরিহার করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, সবকিছুর ভুল ব্যাখ্যা না দিয়ে সংসদে এসে ভূমিকা রাখুন। জাতীয় স্বার্থে যে কোনো বিষয় সংসদে তুলে ধরুন।

