ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ
৪ ফেব্রুয়ারি: ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বিএনপি-জামায়াতের যে কোনো কর্মসূচির দিনে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। সরকারি দলের নেতারা স্পষ্ট বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার নামে রাতের আঁধারে চোরাগোপ্তা হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল বিএনপি-জামায়াত চক্র। তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
বিএনপি-জামায়াতের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আওয়ামী লীগ শান্তির পক্ষে কর্মসূচি পালন করছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, আগামী ১২ মার্চ বিএনপি-জামায়াতের ঢাকা চলো কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ মানবপ্রাচীর কর্মসূচি পালন করবে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মাসে ঢাকায় মানবপ্রাচীর কর্মসূচি পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।
নগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ১০ মার্চের পর যে কোনো দিন রাজধানীতে মানবপ্রাচীর কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি রয়েছে। মিরপুর থেকে শুরু হবে সম্ভাব্য এ কর্মসূচি। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোরশেদ খান জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মার্চ মাসে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশ করবে। সেটা আগামী ১২ মার্চও হতে পারে। আবার এর আগে-পরেও হতে পারে। এর সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িত রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে নানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ কর্মসূচি পালিত হবে। মানববন্ধনকালে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশও অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বিএনপি-জামায়াতের ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলের দিনে সমাবেশ ডেকেছিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। ওই দিন প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় কোনো দলের কর্মসূচিই পালন হয়নি। পরে বিএনপি-জামায়াত ৩০ জানুয়ারি গণমিছিল এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আলাদাভাবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-জামায়াত। তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোর। তা ছাড়া ৩০ জানুয়ারি প্রমাণ হয়েছে, একই দিনে দুটি রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা কর্মসূচি পালন করতে পারে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি জানিয়েছেন, ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার নামে রাতের আঁধারে চোরাগোপ্তা হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল বিএনপি-জামায়াত চক্র। জনস্বার্থে তাদের এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে শান্তির পক্ষে কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ। এতে সংঘাত বাড়বে কেন? ৩০ জানুয়ারি তো সংঘাত হয়নি। ওই দিন দু'দলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য বলেছেন, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠেয় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠকে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এ বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে একটি অপশক্তির অপতৎপরতা ঠেকাতে দলীয় কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।
নেতারা জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বছরই চিহ্নিত কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এ অবস্থায় ষড়যন্ত্রের পথে এগুচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। তারা নানাভাবে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এ কারণেই সম্ভাব্য অঘটন মোকাবেলায় বিএনপি-জামায়াতের যে কোনো কর্মসূচির দিনে পাল্টা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ ঢাকা চলো কর্মসূচির নামে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত-শিবির চক্র। সেখানে ওই দিনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ডাকার প্রস্তুতি থাকায় উত্তেজনার আভাস স্পষ্ট হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

