এখনই দলগুলোকে একসঙ্গে বসে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ বের উচিতঃ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
২ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেছেন, ‘‘তিন বছর পর নয়, এখনই রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সঙ্গে বসে নিরপেক্ষ নির্বাচনের একটি গ্রহণযোগ্য পথ বের করতে ঐক্যমত্যে আসা দরকার। এতে যত দেরি হবে তত ভোগান্তি বাড়বে।’’ বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের উদ্যেগে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সপ্তাহের সমাপ্তি উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউএসএইডের অর্থায়নে পরিচালিত ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ‘‘ স্ট্রেংদেনিং ডেমোক্রেসি ইন চিটাগাং এরিয়া: দ্যা রোল অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটি অব উইমেন অ্যান্ড ইয়্যুথ’’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিভিন্ন স্তরের যুবক, ছাত্র ও মহিলারা এ আলোচনা সভায় অংশ নেন। সভায় চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোর উপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছাড়াও নেতার দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তবে এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেয়নি।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের মেয়র এম মনজুর আলম, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার সোলায়মান আলম শেঠ, জামায়াতের মহানগর সহ-সেক্রটারি আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি ড. ওয়েন লিপার্ট বক্তব্য দেন।
তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ইস্যুতে দর্শকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে আগামী নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বচনের জন্য একটা ম্যাকানিজম দরকার। সেটা যে ধরণেরই হোক, সব দলের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি এ ব্যাপারে সবাই একটা ঐক্যমতে আসবে। তবে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, সেটা কখন- ২০১৫, ২০১৬ নাকি ২০১৭ সালে? কিন্তু এটা যত দেরি হবে তত ভোগান্তি বাড়বে।’’
এর আগে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘‘আমেরিকা ২০০ বছর ধরে গণতন্ত্রের ভিত গড়ে তুলছে। এখনো তা বিনির্মাণ ও পরিশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বয়স মাত্র কুড়ি বছর। আমেরিকার মতো বাংলাদেশও গণতান্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মাণ, পরিশোধন ও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।’’
মার্কিন রাষ্ট্রদুত বলেন, ‘‘আমি প্রত্যাশা করি বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কিভাবে আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয় সে বিষয়টি জাতীয় বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান পাবে।’’
দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, ‘‘বিএনপিসহ প্রায় সব দল বিশ্বাস করে নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার আগে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিও এর পক্ষে ছিল। ক্ষমতাসীন দল শুধু মাত্র ক্ষমতা আকড়ে থাকার জন্য একজনের ইচ্ছা ও নির্দেশে সংবিধান থেকে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। একজনের ইচ্ছায় কিংবা একদলের সম্মতিতে এটা বাতিল করা যাবে না। ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা এভাবে বাতিল হলে কেউ মানবে না।’’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিএনপি চায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, ‘‘যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে বিএনপির কোনো রিজার্ভেশন নেই। বিএনপি চায় আইনের শাসন ও ন্যাযবিচারের শর্ত অনুযায়ী এ বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হোক, অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিচারক নিয়োগ করে, আন্তর্জাতিক আদালতের শর্তগুলো না মেনে বিচারের নামে প্রহসন করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো ঠিকভাবে সম্পাদন করা হলে যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিএনপির আপত্তি নেই।’’
নারী নেতৃত্ব হারাম ঘোষণা করে চারদলীয় জোটে থাকা কতটুকু যৌক্তিক, তানিশা মেহজাবিন নামে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা আ জ ম ওবায়েদউল্লাহ বলেন, ‘‘ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম নয়। তবে আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে নারীকে দলের প্রধান হিসাবে সমর্থন করি না। জামায়াত নারীকে কখনো উপেক্ষা করে না । এ দলে আলাদা মহিলা শাখা রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শতকরা ৩৩ ভাগ মহিলা সদস্যও রয়েছেন।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা দুই বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করেছি। সে দলগুলোর নির্বাচিত নেতৃত্বকে আমরা শর্ত দিয়ে পরিবর্তন করতে পারবো না। তাদের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার অধিকার আমাদের নেই।’’

