সাংবাদিক দম্পতি হত্যা: ১০ দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি

২১ ফেব্রুয়ারি: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার-মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আলোচিত এ জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত কাউকে চিহ্নিতও করা যায়নি। অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজি) পর এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারও আশার বাণী শোনালেন। গতকাল সোমবার তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের ওপর আস্থা রাখুন।' এদিকে পুলিশের তদন্ত টিম গতকাল সকালে মামলার বাদীকে নিয়ে ঘটনাস্থল (রশিদ লজের যে ফ্ল্যাটে সাগর-রুনি খুন হন) পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সব ধরনের কৌশল কাজে লাগিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত দল : গতকাল সকালে তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমানকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা সাগর-রুনির বেডরুমের ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। এছাড়া সাগরের ব্যবহৃত পোশাকের ব্যাপারে খোঁজ নেন তারা। তবে কী কারণে এ পরিদর্শন তা স্পষ্ট করে বলেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন জানান, কিছু বিষয় আমাদের জানার ছিল। তাই ঘটনাস্থলে বাদীকে নিয়ে এসেছি। যে সব বিষয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল এর মাধ্যমে সে সব দূর হবে বলে আশা করছি।
রুনির ভাই রোমান বলেন, তদন্ত দল প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে। এ সময় পুলিশ তার কাছে জানতে চায়, সাগরের কোনো শার্ট-প্যান্ট খোয়া গেছে কি-না। সাগরের ক'টি শার্ট-প্যান্ট সে হিসাব তার জানা থাকার কথা নয় বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। অবশ্য তিনি পুলিশকে বলেছেন, সাগরের শার্ট দেখলে চিনতে পারব। ওই সময় বাসা থেকে পুলিশ মেঘের কিছু পোশাক-পরিচ্ছদ নেয় বলে জানান রোমান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সাগর-রুনিকে হত্যার পর স্বাভাবিকভাবেই খুনিদের শরীর রক্তাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় খুনিরা তাদের পরনে থাকা জামা-কাপড় নিয়ে কোনোভাবেই বাইরে যেতে পারে না। ধারণা করা হচ্ছে খুনিরা সাগরের পোশাক পরেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। যদি এমন হয় তাহলে তারা বেরুনোর সময় ফ্ল্যাটের অন্য লোকদের সন্দেহ অনেকটা এড়াতে পেরেছে। সাগরের জামা-কাপড় নাড়াচাড়া করার সময় খুনিদের কোনো হাতের ছাপ লেগে ছিল কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এতদিনে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কোনো কথা বলেননি। গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে গেলে সাংবাদিকরা হত্যা মামলায় কাউকে চিহ্নিত কিংবা গ্রেফতার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি-না জানতে চান ডিএমপি কমিশনারের কাছে। তিনি তা জানাতে না পারলেও পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন। ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, 'সাগর-রুনির পরিবার ও সাংবাদিকরা এ তদন্ত কাজ যতটুকু আন্তরিকতা দিয়ে করত, আমরা তাদেরও (তাদের আন্তরিকতা) ছাপিয়ে যাব। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন।' হত্যা মামলাটি 'দ্রুততম' সময়ে শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বেনজীর আহমেদ বলেন, 'আমরা ১১ তারিখের পর থেকে (যেদিন সাগর-রুনির লাশ উদ্ধার করা হয়) সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তদন্ত করছি।'
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে কাউকে সন্দেহ বা শনাক্ত করতে পেরেছেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

