হোমপেজ জাতীয় একুশে ফেব্রুয়ারি মাঠে থাকবে ৩ হাজার র‌্যাব

একুশে ফেব্রুয়ারি মাঠে থাকবে ৩ হাজার র‌্যাব

২০ ফেব্রুয়ারি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীতে জনসাধারণের চলাচল ও সব ধরনের যানবাহনে নিরাপত্তায় তিন হাজার র‌্যাব সদস্য মাঠে থাকবে। একুশে উদযাপন উপলক্ষে ডিএমপি কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। সে সঙ্গে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথাও জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার সকাল ১১ টায় ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ, র‌্যারের ডিজি মোখলেসুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।

ডিএমপির নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, নাজিম উদ্দিন সড়ক-বাবুপুরা সড়ক (পুরানো যাদুঘরের সামনের রাস্তা), কলেজ সড়ক (ফজলুল হক হলের পূর্ব পার্শ্বের রাস্তা), আব্দুল গণি সড়ক ও তোপখানা সড়ক এলাকার জনসাধারণ আজিমপুর কবরস্থানে যাওয়ার জন্য শিক্ষা ভবন ক্রসিং দিয়ে দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমী-টিএসসি’র মোড়-নীলক্ষেত সড়ক-নিউ মার্কেট ক্রসিং-নিউ মার্কেট ১নং গেট-পিলখানা সড়ক হয়ে কবরস্থানের উত্তর গেট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া শহিদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী (পার্ক এভিনিউ), সেগুনবাগিচা ও শাহবাগ এলাকার জনসাধারণ শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে টিএসসির মোড়-নীলক্ষেত সড়ক-নিউমার্কেট ক্রসিং-নিউমার্কেট ১নং গেট-পিলখানা সড়ক হয়ে কবরস্থানের উত্তর গেট দিয়ে কবস্থানে ঢুকবেন।

এদিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বকশীবাজার, পলাশী, ঢাকেশ্বরী, লালবাগ, উর্দু রোড, আজিমপুর ও চকবাজার এলাকার জনসাধারণ সলিমুল্লাহ এতিমখানা-আজিমপুর মেটারনিটি-আজিমপুর সড়ক-ছোট দায়রা শরীফ-আজিমপুর বটতলা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাফ কোয়ার্টার-নিউ পল্টন লেন হয়ে গোরস্তানের উত্তর গেট দিয়ে কবরস্থানে ঢুকবেন।

তা ছাড়া আজিমপুর কবরস্থানের সড়ক থেকে যারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যেতে চান তারা আজিমপুর কবরস্থানের মূল গেট থেকে আজিমপুর সড়ক-আজিমপুর বেবী আইসক্রিম মোড়-পলাশী ক্রসিং-এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনারে যাবেন।

বাবুপুরা সড়ক, নাজিম উদ্দিন সড়ক, বকশী বাজার, পলাশী, চকবাজার, উর্দু রোড ও ঢাকেশ্বরী সড়ক এলাকার জনসাধারণ যারা কবরস্থানের দিকে না গিয়ে সরাসরি শহিদ মিনারে যেতে চান তারা পলাশী ক্রসিং-এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনারে যাবেন।

একইভাবে আব্দুল গণি সড়ক, তোপখানা সড়ক ও শহিদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি (পার্ক এভিনিউ) এলাকার জনসাধারণ যারা গোরস্তানে না গিয়ে শহিদ মিনারে যেতে চান তারা শিক্ষা ভবন ক্রসিং-দোয়েল চত্বর ক্রসিং-বাংলা একাডেমী-টিএসসি মোড়-নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়-পলাশী মোড়-এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনার যাবেন।

ওদিকে বাংলামটর ও শেরাটন ক্রসিং হয়ে যারা শহিদ মিনার যেতে চান তারা শাহবাগ ক্রসিং হয়ে টিএসসির মোড়-নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়-পলাশী মোড়-এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনার যাবেন।

এছাড়া কাটাবন হয়ে যারা শহিদ মিনার যেতে চান তারা কাটাবন ক্রসিং হয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়-পলাশী মোড়-এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনার যাবেন। যেসব ছাত্রছাত্রী ও জনসাধারণ রোকেয়া হল, সামসুন্নাহার হল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন এলাকা হতে সরাসরি শহিদ মিনারে যেতে চান তারা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়-পলাশী মোড়-এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনার যাবেন।

এসব রাস্তা দিয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। গোরস্তান এবং শহিদ মিনারে যারা শ্রদ্ধার্ঘ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাবেন তারা অন্যদের অসুবিধার কথা ভেবে রাস্তায় বসা বা দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকবেন।

সবার চলাচলের সুবিধার্থে উল্লিখিত রাস্তায় কোনো ধরনের প্যান্ডেল তৈরি না করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাব। এবারের তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থায় সারাদেশে তিন হাজার র‌্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া র‌্যাবের পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্য নিয়োজিত থাকছে। স্পর্শকাতর স্থানের নিরাপত্তা কার্যক্রমকে পর্যাপ্ত সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসব নিরাপত্তা কার্যক্রম সিসিটিভি মনিটরিং সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়াও র‌্যাবের বোম্ব স্কোয়াড টিম এবং ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে র‌্যাবের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থান এলাকাসহ বিভিন্ন কবরস্থানে জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষে ওই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই এলাকাকে তিনটি সেক্টর এবং ১০টি অবজারভেশন/চেকপোস্টসহ বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে ছয় শতাধিক র‌্যাব সদস্য পুলিশের সঙ্গে তিন স্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

এ ছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু করে সারাদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও যে কোনো ধরনের বিশৃংখলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

By A Web Design