হোমপেজ জাতীয় জমে উঠেছে বইমেলা

জমে উঠেছে বইমেলা

 
 

৩ ফেব্রুয়ারি : ছুটির দিনে অমর একুশে গ্রন্থমেলা এক ভিন্ন আবেদন নিয়ে তার উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।  এ আবেদন অনুভব করা যায়। ভাষায় প্রকাশ অনেক জটিল। ছুটির দিন সকাল হতেই মেলা চলছে। জমে উঠেছে বইমেলা। সকাল হতেই বই নিয়ে স্টলে বিক্রেতা আর প্রকাশক বসে আছেন। বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ বই কিনতে মেলায় হাজির হয়েছেন। পাঠক-লেখকের এক মিলন মেলা। এ মেলা যেন দেশের অস্তিত্ব ও সত্তাকে হৃদয়ে ধারণ করে ভাষা, দেশের জন্য জীবন দেয়া শহীদ সন্তানদের প্রতি চিরন্তন শ্রদ্ধার এক সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টা। যা পবিত্র, নিঃস্বার্থ।

সকাল হতেই শিশুদের উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে। বিভিন্ন স্টল ঘুরে তাদের কার্টুন, কবিতা, গল্প ও সায়েন্স ফিকশনের বইয়ের খোঁজ করতে দেখা যায়। মেলায় অন্যান্য বারের তুলনায় লোক সমাগম বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পাঠচক্র প্রকাশনীর তনুজা আকবর।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “এখনকার পাঠকরা অনলাইনের দিকে ঝুঁকছে। তবে বইয়ের কদর কমেনি’’।

মিরপুর হতে আসা জিয়া রহমান বলেন, ‘‘নতুন বইয়ের স্বাদ, রং, রূপ সব আলাদা। মেলায় ঘুরে বই কেনা খুব মজা’’।

অন্য প্রকশ স্টলের শিশির বলেন, ‘‘বই মেলায় এবার হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে পাঠকরা খুব অনুভব করছেন। তার বই কিনতে ভিড় করছেন। স্যার সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন সবাই এমন দোয়া করছেন।”
তার কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রহমান বলেন, ‘‘হুমায়ূন স্যার তার সৃষ্টিতে আছেন। ছিলেন এবং থাকবেন।”

বিজ্ঞান একাডেমীর আবু হাসান বললেন, “নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান সচেতন করে তুলতে আমরা শুধুমাত্র বিজ্ঞানের বই প্রকাশ করেছি। আশা করি আমরা সফল হবো।”

বিদেশী লেখকদের বই দিয়ে সাজানো পরিপাটি বইঘর পরবাসী প্রকাশনী। স্টল তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ফারজানা আক্তার বললেন, “দেশের পাঠক ও বিদেশের লেখকদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে আমাদের প্রকাশনী কাজ করে। এ মেলায় উভয়ের পারষ্পরিক মতবিনিময় ঘটবে।”

এসময় এক ক্রেতা বলে উঠেন লেখকদের সঙ্গে আমাদের দেখা হবে কিনা। ফারজানা বলেন, হ্যাঁ। সাংবাদিক প্রকাশনীর নাজমুস সাকিব বলেন, ‘‘প্রকাশকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। দেশের অবস্থা বুঝতে হয়। চোখ কান খোলা রেখে সময়ের চাহিদা মেনে বই প্রকাশ করতে হয়।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এবারের বইমেলায় স্টল নিয়েছে। স্টলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ট্রেনিং একাডেমীর ইন্সপেকটর মো. ইকবাল বলেন, ‘‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আইন সম্পর্কে জানার জন্য সঠিক সিলেবাস নেই। ডক্টরেটধারী অনেকেই থানায় এসে জিডিটাই করতে পারেন না। তাই, মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করতে পুলিশ এবারের বইমেলায় স্টল নিয়েছে। এখানে পুলিশের আইনের বিভিন্ন বই পাওয়া যাচ্ছে।”

এদিকে মেলায় ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়। শাহবাগ থানার এসআই নুরম্নল হক বলেন, ‘‘বইমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।”

 

By A Web Design