হোমপেজ অর্থনীতি সঞ্চয় ভেঙ্গে খাচ্ছে মানুষ

সঞ্চয় ভেঙ্গে খাচ্ছে মানুষ

১৩ ফেব্রুয়ারি: আয়ের তুলনায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সঞ্চয় ভেঙ্গে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করছে সাধারণ মানুয়। উচ্চ বিত্তদের তুলনায় মূল্যস্ফীতির কষাঘাতে বেশি জর্জরিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। নিম্নবিত্তদের অবস্থা তো আরো খারাপ।

গত চার বছরের তুলনায় সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের হার চলতি বছরে সবচেয়ে কম। গত অর্থ বছরে (জুলাই১০-জুন১১) মোট দেশজ উৎপাদনের দেশীজ সঞ্চয়ের হার ছিল ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থবছর ২০১০-১১ এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, জিডিপির অনুপাতে সঞ্চয়ের হার ২০০৯-২০১০ এ ছিল ২০ দশমিক ১, ২০০৮-২০০৯ এ ছিল ২০ দশমিক ১ এবং ২০০৭-২০০৮ এ ছিল ২০ দশমিক ৩।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা কমে গেছে। তাছাড়া বৈদেশীক সহায়তার হার আগের বছর গুলোর তুলনায় কমে গেছে। এজন্য দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য সঞ্চয় ভেঙ্গে খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

সর্বসাধারনের জীবন যাত্রার মান স্বাভাবিক করতে সরকার সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বহু আগেই ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি বেশ খানিকটা বেড়েছে।

পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হার ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

গত এক বছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ। অথচ বাজেটে অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ এ রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছি।

অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৮৩ শতাংশ। মাস ভিত্তিক হিসেবে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগের তুলনায় টাকা উঠানোর প্রবনতা বেশি লক্ষণীয়।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অব্যাহত ভাবে কমতে থাকলে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যাবস্থা থেকে ঋণ নিতে হবে সরকারকে। এতে করে ব্যাংকগুলোর বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে। ফলে নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম জানান, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমার পিছনে সুদের হার কম থাকাটা যেমন দায়ী। সেই সঙ্গে নিত্যপণ্যের উচ্চ দামের কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে দিচ্ছে।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধির শুধু নয় অর্থনীতির অন্যান্য সূচকগুলো ভাল না হলে এ বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

By A Web Design