রেকর্ড রেমিট্যান্সঃ রিজার্ভ বাড়ছে
৩ ফেব্রুয়ারি : প্রবাসীদের পাঠনো রেমিটেন্সে রেকর্ড বছরের প্রথম মাসেও অব্যাহত রয়েছে। এর আগের মাসের রেকর্ড ভেঙ্গে জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ১২১ কোটি ৫৮ লাখ সমপরিমাণ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। মাস ভিত্তিতে এ পরিমাণ রেমিটেন্স এর আগে আর কখনো আসেনি।
ডিসেম্বর মাসের রেকর্ড করা রেমিটেন্সের তুলনায় জানুয়ারিতে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন এ রেকর্ড হল। চলতি অর্থ বছরের ডিসেম্বর মাসে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গেল জানুয়ারি মাসে বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.২৭ শতাংশ রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিগত অর্থ বছরের একই সময়ে দেশে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৯৭ কোটি ৫ লাখ ডলার। এর ফলে চলতি অর্থ বছরের বিগত সাত মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৭২৮ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার।
চলতি অর্থ সেপ্টেম্বরে থেকে রেমিটেন্স প্রবাহের নিম্ন ধারা শুরু হয়। রেমিটেন্স প্রবাহের এ নিম্নধারার ফলে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দেয়। কেননা আশঙ্কাজনক হারে কমতে থাকে বৈদেশীক মুদ্রার রিজার্ভ। গেল মাসের ৯ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। যা ছিল বিগত ৩ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধের জন্য ওই দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।
বৈদেশীক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে বলা হয় প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে রেমিটেন্স এ রেকর্ড করা সম্ভব হচ্ছে। প্রবাসীরা যাতে অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ না করে তার জন্য বিভিন্ন ভাবে তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
জানুয়ারিতে প্রবাসীদের কাছ থেকে রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলো রেমিটেন্স সংগ্রহ করে ৩১ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ও বিদেশী ব্যাংকগুলো সংগ্রহ করেছে যথাক্রমে এক কোটি ১৩ লাখ ও এক কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার।
জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংগ্রহ করেছে ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার । এর মধ্যে বরাবরের মতো ইসলামী ব্যাংকের সংগ্রহ ছিল সর্বোচ্চ। ইসলামী ব্যাংক সংগ্রহ করেছে ৩১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

