হোমপেজ অর্থনীতি পুঁজিবাজার: লেনদেন তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

পুঁজিবাজার: লেনদেন তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

 
 


২৭ জানুয়ারি: মুদ্রানীতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দিনভর অস্থিরতার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ পর্যন্ত নিম্নমুখী প্রবণতায় শেষ হয়েছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দর কমার পাশাপাশি সাধারণ মূল্য সূচক কমেছে ৭৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। লেনদেনও নেমে এসেছে প্রায় তিন মাসের সর্বনিম্নে।

চলতি মুদ্রানীতির কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ভাটা আসবে_ এমন আশঙ্কা থেকে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বাজারে এর বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ১২ দিনই দরপতন হয়েছে। বাজারের প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ৯৯৬ পয়েন্ট বা ১৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এদিকে ঘোষিত মুদ্রানীতি শেয়ারবাজারে প্রকৃতই কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। এ মতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, 'চলতি মুদ্রানীতিতে আগেরটির তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে বাজার পরিস্থিতি বিগত ছয় মাসে যা ছিল, তার তুলনায় নেতিবাচক ধারায় যাওয়ার যুক্তিযুক্ত নয়। এ ছাড়া মানি সার্কুলেশন কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা করা হলেও সিআরআর ও এসএলআর হার আগের অবস্থানেই রয়েছে।'

সংকোচনমুখী নীতির কারণে ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ কম থাকবে। এ জন্য শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বিনিয়োগে ভাটা পড়ায় বা তারল্য প্রবাহে বিঘ্ন হবে না_ এমন মন্তব্য করে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, 'ব্যাংকগুলো গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারে নিষ্ক্রিয়। মার্কেট এক্সপোজার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক নিচে থাকায়, এ মুহূর্তে তাদের বিদ্যমান বিনিয়োগ প্রত্যাহারেরও সম্ভাবনা নেই।'

বাজার পরিস্থিতি : গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৪৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৯টির দর। সাধারণ মূল্য সূচক আগের দিনের থেকে ৭৭ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে ৪৪৮৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। দিনব্যাপী মোট ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত বছরের ৩ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৩টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৩১টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬টির দর। নির্বাচিত খাত সূচক ১৯৪ পয়েন্ট কমে ৮২৭৫ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার।

গতকালের ডিএসইর লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বুধবারের ধারাবাহিকতায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দিনের লেনদেন শুরু হয়। বেশির ভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় সাধারণ সূচক লেনদেনে শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে ৪৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

এরপর বেশির ভাগ শেয়ারের দর কমতে থাকলে সূচক নিম্নমুখী ধারায় ফিরে যায়। দুপুর ২টায় মুদ্রানীতি সংক্রান্ত নানা তথ্য বাজারে চলে এলে বাজারের প্রায় সব শেয়ার টানা দর হারাতে থাকে।

দিন শেষে লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন বৃদ্ধি ছাড়া অন্য সব খাতেরই লেনদেন কমেছে।

প্রায় ২০ কোটি টাকা লেনদেন কমে ব্যাংক খাতের লেনদেন মাত্র ৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খাতভিত্তিক লেনদেনে এরপরের অবস্থান বস্ত্র খাতে ২৬ কোটি ৮৮ লাখ, প্রকৌশল খাতে ১৬ কোটি, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে ১৪ কোটি ৮৪ লাখ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

একক কোম্পানি হিসেবে গ্রামীণফোনের সর্বাধিক ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এরপরের অবস্থানে ছিল আরএন স্পিনিং, বেক্সিমকো লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, ন্যাশনাল ব্যাংক, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, ইউসিবিএল, ফু-ওয়াং সিরামিক্স।

ব্যাপক দর হ্রাসের মধ্যেও গতকাল ডিএসইতে মডার্ন ডায়িং, ১ম আইসিবি এএমসিএল ও রিলায়েন্স ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের দর নয় শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। দরহ্রাসের শীর্ষে ছিল মেট্রো স্পিনিং, ডেসকো, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, ১ম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ড, ঢাকা ডায়িং।

 

By A Web Design