হোমপেজ রাজশাহী চালু হচ্ছে উত্তরা ইপিজেড

চালু হচ্ছে উত্তরা ইপিজেড

 
 

২১ ফেব্রুয়ারি: ২০০১ সালে যাত্রা শুরু হয় উত্তরা ইপিজেডের। লক্ষ্য ছিল মঙ্গাপীড়িত এলাকার ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের। কিছুদিন স্থবির অবস্থা বিরাজ করলেও এখন তা কাটতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ১০ ফ্যাক্টরিতে ২০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার বিনিয়োগ করেছেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। কর্মসংস্থান হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার মানুষের। তবে গ্যাসের অভাবসহ রফতানি পোর্ট দূরে হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

ইপিজেড কর্তৃপক্ষ বলছেন, চীন ও ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য উত্তরা ইপিজেড উপযুক্ত স্থানে পরিণত হতে পারে। রংপুর বিভাগ হলে হয়তো গ্যাসের সমস্যাও দূর হবে।

শুরুতে এ ইপিজেডে হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে চীনারা অর্থ বিনিয়োগ করে। উত্তরা সোয়েটার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে উন্নতমানের সোয়েটার উৎপন্ন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সব শ্রমিক বাংলাদেশের। সুপারভাইজার থেকে ওপরের কর্মকর্তারা চীনা। সূত্র জানায়, সস্তায় শ্রমিক ও ইপিজেড সংক্রান্ত নিয়মাবলিতে ৫০ ভাগ ছাড় পাওয়ায় এখানে রফতানিমুখী শিল্প স্থাপন লাভজনক। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে এখানে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

উত্তরা ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর মোট ১৭ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে এখান থেকে। এরমধ্যে চলতি অর্থবছরে
হয়েছে ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এরই মধ্যে আরও ৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান প্লট বরাদ্দ নিয়ে ফ্যাক্টরি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এগুলোর বেশিরভাগ হংকংভিত্তিক। ফ্যাক্টরি নির্মাণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এর অধিকাংশই ২০১৩ সাল থেকে উৎপাদনে যাবে। সে সময় আরও সাড়ে ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

উৎপাদনে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হংকংভিত্তিক এভারগ্রিন প্রডাক্ট ৮টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে উৎপাদন করছে 'পরচুলা'। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে ৩ হাজার ৫০০ শ্রমিক। কর্মকর্তারা বলছেন, ইপিজেডে বিনিয়োগকারী সাধারণত পাওয়া যায় না। তবে উত্তরা ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এখানে উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্পপ্লট ও কারখানা ভবনের ভাড়া ৫০ ভাগ হ্রাস করা হয়েছে।

নীলফামারী জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কের পাশে ২১৩ দশমিক ৬৬ একর জায়গায় স্থাপিত উত্তরা ইপিজেডে শিল্পপ্লটের সংখ্যা ২০২টি। এর সব কটি প্লট উপযুক্ত হয়ে আছে এবং ইতিমধ্যে ১১৮টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। উৎপাদনে থাকা ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি কারখানার তিনটিই তৈরি পোশাকের। উদ্যোক্তরা বলছেন, গ্যাস না থাকায় ওয়াশিং প্লান্ট করতে পারছেন না তারা। এ কারণে প্যাকেজিংয়ের আগেই নিটিংয়ের জন্য আনফিনিশড প্রডাক্টগুলো নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রামে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

ইপিজেড থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের এবং ৩৮ কিলোমিটার দূরের সীমান্ত চিলাহাটিকে স্থলবন্দরে রূপ দিলে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে। উত্তরা ইপিজেডের জেনারেল ম্যানেজার আবদুল আলিম বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় এক্সপোর্ট জোন। এর সঙ্গে রেলের উভয় লাইন মিক্সড গেজের সংযোগ হলে মংলা ও চট্টগ্রাম পোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে এবং এ কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।

এসব সুবিধা নিশ্চিত হলে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে একটি বড় ইপিজেডে পরিণত হবে উত্তরা ইপিজেড।

 

By A Web Design