৬১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হচ্ছে
১৮ ফেব্রুয়ারি: ৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬১টি বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজ শুরু হচ্ছে। এরমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে এবং অবশিষ্ট ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শুরু হবে। দুই জেলায় এই ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শ্রেণীকক্ষের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর রাজশাহী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের তালিকায় ৪৫টি বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও ১৬টি মাদ্রাসা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের দরপত্র আহ্বান ও গ্রহণ শেষে কাজের আদেশ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫২ লাখ টাকায় নতুন চারতলা ভিত দিয়ে তিন কক্ষের একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের তালিকায় রয়েছে, তানোরের বাঙ্গা চকমহরত উচ্চ বিদ্যালয়, মহর উচ্চ বিদ্যালয়, বনকেশর ব্রিজঘাট উচ্চ বিদ্যালয়। গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, গমা উচ্চ বিদ্যালয়। মোহনপুরের ফুলশো উচ্চ বিদ্যালয়, আমরইল উচ্চ বিদ্যালয়, পিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বাগমারার কনাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাটমাদনগর উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীপুর এলএম উচ্চ বিদ্যালয়। পুঠিয়ার ভড়ূয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, শিবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। দুর্গাপুরের পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বাঘার কালিদাসখালি উচ্চ বিদ্যালয়, খোর্দ্দ বাউসাবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বাগবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, চকতির্কি উচ্চ বিদ্যালয়, ফেরদৌস মহল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। গোমস্তাপুরের খয়রাবাদ হাজী সদর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বহিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সন্তোষপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ভোলাহাটের হোগলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। নাচোলের ভাটসা উচ্চ বিদ্যালয়। চাঁপাই সদরের মহারাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কারবালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
এ ছাড়া একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ৫৫ লাখ টাকা করে ব্যয় ধরা আরও ১৬টি মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ কাজের আদেশ প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো হলো তানোরের কৃষ্ণপুর বাইতুল আমান দাখিল মাদ্রাসা, দিব্বস্থলী দাখিল মাদ্রাসা, রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসা, বুধপাড়া আলিম মাদ্রাসা, পবার নওহাটা আঞ্জুমানে তাওহিদ দাখিল মাদ্রাসা। মোহনপুরের কোটালীপাড়া হাসনাবাদ দাখিল মাদ্রাসা, বাগমারার উত্তর একডালা দাখিল মাদ্রাসা, কুমারপুর আরজানিয়া আলিম মাদ্রাসা। পুঠিয়ার বিড়ালদহ এসকেএডি ফাজিল মাদ্রাসা। দুর্গাপুরের জয়কৃষ্ণপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। চারঘাটের ওমরগাড়ী দারুল খায়ের দ্বিমুখী ফাজিল মাদ্রাসা, পাঁচবাড়ীয়া এরশাদিয়া আলিম মাদ্রাসা। শিবগঞ্জের চাঁদপুর হেদায়েতুল্লাহ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। গোমস্তাপুর বালুগ্রাম আলিম মাদ্রাসা, ভোলাহাটের গোয়ালবাড়ী দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা ও চাঁপাই সদরের বিবি বুদিজাননেছা মহাজন ওয়াক্ফ স্টেট মহিলা দাখিল মাদ্রাসা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ৮টি প্রতিষ্ঠানের। এরমধ্যে রাজশাহী শহরের ৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রতিটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ টাকা করে। এগুলো হলো বালিয়াপুকুর বিদ্যানিকেতন, মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বালাজান্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও মেহেরচণ্ডী উচ্চ বিদ্যালয়। এ ছাড়া ৫২ লাখ টাকা করে ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান হয়েছে পুঠিয়ার বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। বাঘার তেঁতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। চারঘাটের বুধিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, খোর্দ্দ গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য ৫০ লাখ টাকা করে ব্যয় ধরে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের। এগুলো হলো রাজশাহী ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমী, পুঠিয়ার বিড়ালদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পবার বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভালাম উচ্চ বিদ্যালয়। বাগমারার মচমইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বাগমারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। চাঁপাই সদরের বালিয়াডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, শিবগঞ্জের কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও শাহবাজপুর ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক তরুণ কুমার বলেন, এই ভবনগুলো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর রাজশাহীর সহকারী প্রকৌশলী আলী ইমাম বলেন, শিগগিরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণ শুরু হবে।

