হোমপেজ রাজশাহী সাদ হত্যাকাণ্ড: সাদের স্ত্রী পরিচয়দানকারী ইশরা হক ঐশী গ্রেফতার

সাদ হত্যাকাণ্ড: সাদের স্ত্রী পরিচয়দানকারী ইশরা হক ঐশী গ্রেফতার

৪ ফেব্রুয়ারি: সাদ কেমন আছে? আমার ব্যাটার (ছেলে) সঙ্গে একটু কথা বলতে দাও। তোমরা ঘুরে এসো। তোমাদের মেনে নেব মা। তুমি যেমন ঘরের মেয়েই হও, মেনে নেব। সাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে দাও।' সাদ নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোন রিসিভ করতেই নারীকণ্ঠে বলা হয়, 'আমি মৌ বলছি, সাদের স্ত্রী।' এরপর সাদের মা নাদিরা বেগম বারবার মৌর কাছে এভাবেই সন্তানের খবর জানতে চান। একবার কথা বলতে চান; কিন্তু মায়ের আকুতি হার মানে মৌ পরিচয়ে কথা বলা ইশরা হক ঐশীর প্রতারণার কাছে।

রাজশাহী মহানগরীর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাদিমুজ্জামান সাদকে হত্যার পর ঐশীকে ব্যবহার করে হত্যাকারীরা। সব ঘটনা জানার পর ঐশী হত্যাকারীদের সঙ্গ দিয়ে সাদের মাকে মোবাইল ফোনে জানায় সে সাদকে বিয়ে করেছে। এর আগে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। সাদের লাশ উদ্ধারের পর মৌ পরিচয়ে ফোন করা নারীর সন্ধানে নামে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ মৌ পরিচয়ে সাদের মায়ের সঙ্গে কথা বলা ইশরা হক ঐশীকে গ্রেফতার করে। ঐশীর বাড়ি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার হাজরাপুকুর এলাকায়। সে সাদ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সুইটের বান্ধবী এবং নগরীর বরেন্দ্র কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

গ্রেফতারের পর ঐশী পুলিশকে জানায়, সাদ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সুইট তার বন্ধু। তিন মাস আগে সাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সুইটের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাদকে ১৭ জানুয়ারি বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর সুইট, কোয়েল ও অনিক তাকে হত্যা করে। পরদিন লাশ ম্যানহোলে লুকিয়ে রাখে। বিষয়টি ভিন্নদিকে নিতে সুইট তাকে মৌ পরিচয়ে সাদের মাকে ফোন করতে বলে। সাদের সিমকার্ড নিজের ফোনে নিয়ে ঐশী সাদের মাকে ফোন করে। ফোন করে সে সাদের মাকে জানায়, সাদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও। এরপর সাদের মায়ের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ঐশী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে উত্তর দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, সাদের মায়ের সঙ্গে ঐশীর কথোপকথনের পুরো রেকর্ড তাদের কাছে আছে। ওই রেকর্ড অনুযায়ী সাদ হত্যাকা ের বিষয়টি ঐশী জানার পরও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি ভিন্নদিকে নেওয়ার চেষ্টা চালায়, এটা নিশ্চিত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ফোনে কথা বলা ঐশীকে শনাক্ত করে রিমান্ডে থাকা আসামি মাসুদ। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সাদের লাশ উদ্ধারের পর ঐশী তার মোবাইল ফোনের নম্বর বদল করে। গ্রেফতারের আগে ঐশীর পরিবারের কয়েক সদস্যকে নগরীর বালিয়াপুকুর এলাকার একটি বাড়িতে রেখে ঐশীকে সেখানে আসার খবর দেওয়া হয়। ঐশী সেখানে এলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল বিকেলে ঐশীকে আদালতে হাজির করে দু'দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ১৭ জানুয়ারি পিকনিকের কথা বলে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয় সাদকে। ওইদিন রাতে সাদকে হত্যা করা হয়। ১৮ জানুয়ারি সাদের লাশ ফেলে দেওয়া হয় ছাত্রাবাসের ম্যানহোলে। সাদের বাবার দায়ের করা মামলায় র‌্যাব তিনজনকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারি র‌্যাব নগরীর মাহমুদা রফাত ছাত্রাবাসের ম্যানহোল থেকে সাদের লাশ উদ্ধার করে।

By A Web Design