বরেন্দ্র অঞ্চলঃ মরে যাচ্ছে নদী

২ ফেব্রুয়ারি: দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের এককালের খরস্রোতা নদীগুলোর অতীত ঐতিহ্য আর নেই। কালক্রমে নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় নদীগুলো দিয়ে এখন আর পালতোলা নৌকা চলে না। এর বদলে ভরাট হওয়া নদীর তলদেশে এখন হচ্ছে ফসলের আবাদ, চলছে যানবাহন ও ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা। আর নদীর তীরে কেবল ধুধু বালুচর। এরই মধ্যে এ খরা মৌসুমে পানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নৌঘাট এবং বেকার হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার মাঝিমাল্লাসহ নৌশ্রমিক। পলি অপসারণের অভাবে নদীগুলোতে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর অনেকাংশেই চলছে দখলবাজি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী-রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের ভেতর দিয়ে বড় ও মাঝারি মিলে প্রায় ১৩টি নদী বয়ে গেছে। এসবের অধিকাংশই এখন ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার সময় কয়েক মাস পানি থাকে, এরপরই শুকিয়ে যায় এসব নদী। যে দু'একটিতে সামান্য পানি থাকে, সেসব এখন নালায় পরিণত হয়েছে, ক্ষীণভাবে কিছু পানি বইছে। আগে এমনটি লক্ষ্য করা যায়নি। এ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তা, ব্রক্ষপুত্র, যমুনা, করতোয়া বুড়িতিস্তা, ঘাঘট, আত্রাই, চিকলি, ইছামতি, কাঞ্চন, বুড়িখোড়া, ডাহুক ও ছোট যমুনা প্রভৃতি। রানীরবন্দর-খানসামা সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার শেষ সীমানায় চান্দেরডাঙ্গা এলাকায় নদী দখল করে নেওয়া হয়েছে। সেখানে খনন করে স্থাপন করা হচ্ছে ব্যক্তিগত পুকুর। বন্ধ হয়ে গেছে পানি প্রবাহ।
যমুনা নদীর অনেক স্থান পানিশূন্য হয়ে পড়ায় মাঝে মাঝে চর জেগে ওঠায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে গাইবান্ধার সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার প্রায় ১৮টি ইউনিয়নের ১০০টি চরাঞ্চলের অধিকাংশের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের নৌ যোগাযোগ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে এবং আর ক'দিন পর বাকিগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানায় ঘাটের সঙ্গে সংশিল্গষ্টরা। এতে প্রায় ২১টি নৌঘাটের কয়েকশ' মাঝিমাল্লা বেকার হয়ে পড়বেন। একইভাবে পুরো এ খরা মৌসুমে উল্লেখিত নদীগুলোর নৌঘাট একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বেকার হয়ে পড়ছেন কয়েক হাজার নৌশ্রমিক। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফদ্দৌলা বলেন, দীর্ঘদিন পলি জমে নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুকনো মৌসুমের শুরু থেকেই নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং জেগে ওঠে চর। নিয়মিত ড্রেজিং করা হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। সরকারিভাবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জে নদী ড্রেজিং করা হচ্ছে। সেটি সফল হলে হয়তো এ অঞ্চলের নদীগুলোও ড্রেজিং করা হবে।

