হোমপেজ রাজশাহী সাদ হত্যাকাণ্ড: আসামিদের ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর

সাদ হত্যাকাণ্ড: আসামিদের ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর

 
 


২৭ জানুয়ারি: রাজশাহী নগরীতে কলেজ ছাত্র নাদিমুজ্জামান সাদকে অপহরণের পর জবাই করে হত্যার ঘটনায় আটক তিন ছাত্রের স্বীকারোক্তিনুযায়ী ছুরি ও একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ছুরি দিয়েই সাদকে জবাই করা হয়। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের পাশে আলাউদ্দিন ছাত্রাবাস থেকে এগুলি উদ্ধার করে রাজপাড়া থানা পুলিশ।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা আটককৃতদের রাজপাড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাদের কলেজ ছাত্র সাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন খান জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে তাদের আদালতে চালান দিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

উল্লেখ্য, অপহরণ হওয়ার আটদিন পর বুধবার বিকেলে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ এর সদস্যরা নিহত কলেজ ছাত্র সাদের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে তিন কলেজছাত্রকে আটক করে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাদের নগরীর রাজপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়।

নিহত নাদিমুজ্জামান সাদ নগরীর লক্ষ্মীপুর প্যারামেডিকেল এলাকার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের ছেলে এবং রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

র‌্যাব-৫ রেলওয়ে কলোনি ক্যাম্পের কর্মকর্তা বিএম নূর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সাদের বন্ধু অনিক তাকে মোবাইল করে ডেকে নেয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিহত সাদ তার মাকে জানায় বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে যাচ্ছে। এর পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পায়নি পরিবারের সদস্যরা। গত ১৯ জানুয়ারি সাদের বাবা আমিনুল ইসলাম এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন খান তাকে কোনো সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি গত ২৩ জানুয়ারি র‌্যাবকে বিষয়টি জানান।

পরে র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদ ইবনে আলী ওরফে শাওন (১৮), কায়ছার আহমেদ অনিক (১৮) ও রাশিদুল ইসলাম বিপুকে (১৮) আটক করতে সক্ষম হয়। তারা তিনজনই রাজশাহী নগরীর বরেন্দ্র কলেজের ছাত্র।

জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার বিকেলে নগরীর মঠপুকুর এলাকার একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংকি থেকে নিহত কলেজছাত্র সাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে তারা সাদকে অপহরণ করেছিল। কিন্তু পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সামাল দিতে না পেরে সাদকে হত্যা করে। এক পর্যায়ে লাশ গুম করতে ওই সেফটি ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দেয় তারা।

নূর মোহাম্মদ বলেন, তারা মোট পাঁচ বন্ধু ছিল মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। অপর দুই বন্ধু সুইট ও কয়েলকে আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

এদিকে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন খান খুনের কারণ সম্পর্কে জানান, পলাতক আসামি সুইটের প্রেমিকার সঙ্গে নিহত সাদেরও সম্পর্ক ছিল। আর এই বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এ ব্যাপারে পুলিশী অবহেলার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

By A Web Design