রংপুর
ইন্টার্নিদের ধর্মঘটে অচল রংপুর হাসপাতাল
রংপুর, ১৯ অক্টোবর: ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে ভেঙে পড়েছে রংপুর মেডিকেল হাসাপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের এক নেতার পুত্রের হাতে মামুন নামের এক ইন্টার্নি চিকিৎসককে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মত ধর্মঘটে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
ধর্মঘট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পরেও ইন্টার্নি চিকিৎসকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতায় যেতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে বলে দাবি করলেও ইন্টার্নি চিকিৎসক এসোসিয়েশন ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন।
ধর্মঘটে রোগিরা সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন। তারা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইন্টার্নি চিকিৎসক ছাড়াই কর্তৃপক্ষ কোনোমতো ইমার্জেন্সিসহ ওয়ার্ডগুলোতে নিয়মিত ডাক্তার দিয়ে সেবা দিচ্ছেন। রোগীর তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার পুরোটাই ভেঙে পড়েছে বলে জানা যায়। অনেকেই ভর্তি হতে এসে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
হাসাপাতালের পরিচালক ডা. তৌফিকুর রহমান জানান, বিষয়টি সুরাহার জন্য মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ইন্টার্নি দের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। আমি পুলিশের সুপারের কাছে লিখিতভাবে তাদের নিরাপত্তার বিষিয়টি নিশ্চিত করার জন্য আবেদনও করেছি। আলোচনায় তারা ধর্মঘট তুলে নেয়ার বিষয়টি আমাকে লিখিত ভাবে জানিয়েছে। এরপর আমি দেখেছি তারা ধর্মঘট তুলে নিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।
তবে পরিচালকের এই বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়েছেন ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি কুতুব উদ্দিন। তিনি বিকেল গতকাল পাঁচটায় জানান, বৈঠকে আমরা আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো বলেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় আমরা ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছি। পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।
ইন্টার্নি চিকিৎসক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সঞ্জয় কুমার জানান, রোববার হাসপাতালের ১৫ নম্বর সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা ডা. দেলোয়ার হোসেনের পুত্র এইচএম মোরশেদ চিকিৎসাধীন এক রোগীকে দেখতে গিয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্নি ডাক্তার মামুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারপিট করে। এরপর সোমবার দিনভর ইন্টার্নি চিকিৎসকদের মোরশেদ ও তার সঙ্গীসাথীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
তিনি জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হলেও তিনি ইন্টার্নিরে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালে কর্মরত ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তা চেয়ে এবং হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনসহ তিন দফা দাবিতে সোমবার সকালে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করে। পরিচালক এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ না করায় তারা এ ধর্মঘট শুরু করে বলে জানান সঞ্জয় কুমার।
এসোসিয়েশনের সভাপতি কুতুব উদ্দিন জানান, আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় আমরা আরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।


রংপুর